নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: চলতি বছরও গঙ্গাসাগর মেলা সফলভাবে সম্পন্ন করল পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশন। লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রীর যাতায়াতকে সুষ্ঠু, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলতে ডিভিশন কর্তৃপক্ষ যে দক্ষতা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছে, তা সর্বত্র প্রশংসিত হয়েছে।
তীর্থযাত্রীদের বিপুল ভিড়ের কথা মাথায় রেখে আগাম পরিকল্পনা ও সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে শিয়ালদহ ডিভিশন। মেলা চলাকালীন শিয়ালদহ থেকে নামখানা ও কাকদ্বীপগামী মোট ৩৫২টি বিশেষ ট্রেন চালানো হয়, যা পূর্ববর্তী সমস্ত রেকর্ড ছাপিয়ে যায়। ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখতে এবং যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছনো নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি রাখা হয়।
১৫ ও ১৬ জানুয়ারি অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সামাল দিতে নেওয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থা। ১৫ জানুয়ারি বিহারমুখী যাত্রীদের হঠাৎ ভিড় বেড়ে যাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে একটি বিশেষ ‘স্ক্র্যাচ রেক’ ট্রেন পরিষেবায় যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি বিহারগামী তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনে অতিরিক্ত দুটি করে জেনারেল কোচ সংযোজন করা হয়, যাতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমে।
যাত্রী চলাচল নিয়ন্ত্রণে বৃহৎ হোল্ডিং এরিয়ার কৌশলগত ব্যবহার করা হয়। প্রবেশ ও প্রস্থান গেট আলাদা করে দেওয়ায় সার্কুলেটিং এরিয়ায় যানজট এড়ানো সম্ভব হয় এবং যাত্রীরা সুশৃঙ্খলভাবে চলাচল করতে পারেন।
যাত্রী পরিষেবার মান বাড়াতে অতিরিক্ত টিকিট কাউন্টার চালু করা হয়। পাশাপাশি অভিনব উদ্যোগ হিসেবে এম-ইউটিএস (M-UTS) পরিষেবা চালু করা হয়, যেখানে বুকিং ক্লার্করা যাত্রীদের কাছে গিয়ে সরাসরি টিকিট প্রদান করেন। এর ফলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ঝক্কি কমে এবং প্রবীণ ও অসহায় যাত্রীরা বিশেষভাবে উপকৃত হন।
১১ থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত গঙ্গাসাগর মেলায় প্রায় ১০ লক্ষ যাত্রী যাতায়াত করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। শিয়ালদহ ডিভিশনের উদ্যোগে হাজার হাজার তীর্থযাত্রী অত্যন্ত স্বল্প ব্যয়ে যাত্রার সুযোগ পান। ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব সত্ত্বেও ভাড়া নির্ধারণ করা হয় মাত্র ২৫ টাকা, যাতে সাধারণ ও প্রান্তিক ভক্তরাও সহজেই এই পবিত্র যাত্রায় অংশ নিতে পারেন।
নিরাপত্তার দিকেও ছিল কড়া নজর। পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি, বোর্ডিং ও নামার স্থানে নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি এবং প্রতিবন্ধী ও বিশেষ সহায়তাপ্রাপ্ত যাত্রীদের জন্য আলাদা সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়।
শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিআরএম শ্রী রাজীব সাক্সেনা জানান, গঙ্গাসাগর মেলা চলাকালীন ডিভিশনের নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা তীর্থযাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই সাফল্য শিয়ালদহ ডিভিশনের প্রতিটি কর্মীর অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ফল, যাঁরা লক্ষ লক্ষ ভক্তের জন্য স্মরণীয় ও সুশৃঙ্খল তীর্থযাত্রা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন।