নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্যে ভোটার তালিকা যাচাই বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে বিতর্কের আগুন থামার লক্ষণ নেই। বিএলও-র পর এবার খোদ মাইক্রো অবজার্ভারকে হেনস্থার অভিযোগ উঠল দক্ষিণ দিনাজপুরে। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের নওদায় এসআইআর নোটিস পাওয়ার পর ‘আতঙ্কে’ এক বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
শনিবার দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ বিডিও অফিসে এসআইআর শুনানির কাজ চলাকালীন আক্রান্ত হন মাইক্রো অবজার্ভার দিব্যেন্দু গড়াই। অভিযোগ, ভিড়ের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি হঠাতই চড়াও হয়ে তাঁকে সজোরে থাপ্পড় মারেন। ঘটনার একটি ভিডিও (সত্যতা যাচাই করেনি ভয়েস বাংলা নিউজ) ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে যায়। বিজেপির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের কাজে শাসকদল পরিকল্পিতভাবে বাধা দিচ্ছে। যদিও তৃণমূল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশ আক্রমণকারীর সন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে, মুর্শিদাবাদের নওদার ত্রিমোহিনী পশ্চিমপাড়া এলাকায় তোজাম্মেল শেখ (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের দাবি, ২০০২ সাল থেকে ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও তোজাম্মেল, তাঁর স্ত্রী ও পুত্রের নামে এসআইআর নোটিস পাঠানো হয়। সেই নোটিস হাতে পাওয়ার পর থেকেই প্রবল দুশ্চিন্তায় ছিলেন ওই বৃদ্ধ। সেই উদ্বেগের মাঝেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। কল্যাণীর গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণই মৃত্যুর কারণ।
এই মৃত্যুকে হাতিয়ার করে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বিঁধেছে তৃণমূল। নওদা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল পর্যবেক্ষক মোশারফ হোসেন মধুর তোপ, “ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষের মনে ভয় ঢোকানো হচ্ছে। এই হেনস্থার জেরেই গ্রামের গরিব মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।” অন্যদিকে, বিজেপি পাল্টা জানিয়েছে, প্রক্রিয়াটি আইনসম্মত এবং এর সঙ্গে তৃণমূল অযথা রাজনীতি জড়াচ্ছে।
ছবি: এআই (AI)