West Bengal 7th Pay Commission
নিজস্ব প্রতিবেদন: দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। সব ঠিক থাকলে এপ্রিলে ভোটযুদ্ধ। তার আগে নবান্নের তুরুপের তাস কি সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো? আসন্ন রাজ্য বাজেটে (ভোট-অন-অ্যাকাউন্ট) কি সপ্তম বেতন কমিশনের ঘোষণা করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী? জল্পনা তুঙ্গে। কিন্তু সরকারি কর্মীদের একাংশের দাবি, এই ঘোষণা আসলে ‘মরীচিকা’। কমিশন বসলেও আদতে কর্মীদের লাভের খাতা শূন্যই থাকবে। কিন্তু কেন?
ভোটের আগে মন জয়ের চেষ্টা? রাজ্য সরকারি কর্মীদের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। বকেয়া ডিএ-র দাবিতে আন্দোলন গড়িয়েছে আদালত থেকে রাজপথ পর্যন্ত। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ভোটের আগে কর্মীদের সেই ক্ষোভ প্রশমনে অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটে বড় ঘোষণা করতে পারে রাজ্য। নজরে সেই ‘সপ্তম বেতন কমিশন’ এবং বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (DA) সামান্য বৃদ্ধি।
অঙ্কের ফেরে হতাশ কর্মীরা কমিশন বা ডিএ ঘোষণা হলেও আদতে কি লাভ হবে? হিসেব কষে হতাশ কর্মীরাই। পরিসংখ্যান বলছে, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা বর্তমানে সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় ৫৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। এমনকি তাঁদের জন্য অষ্টম বেতন কমিশনের তোড়জোড়ও শুরু হয়ে গিয়েছে। সেখানে রাজ্যের ছবিটা ঠিক উল্টো। পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীরা এখনও ষষ্ঠ বেতন কমিশনের আওতায় মাত্র ১৮ শতাংশ ডিএ পাচ্ছেন (সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী)।
কর্মীদের যুক্তি, মূল বেতনের সঙ্গে ডিএ-র এই বিশাল ফারাক না কমিয়ে যদি তড়িঘড়ি সপ্তম বেতন কমিশন গঠনও করা হয়, তবে ‘বেসিক পে’ বাড়লেও হাতে আসা বেতনের খুব একটা হেরফের হবে না। কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে রাজ্যের ফারাক সেই আকাশ-পাতালই থেকে যাবে।
শহিদ মিনারে সমাবেশের ডাক এই বঞ্চনার প্রতিবাদেই আগামী ২৭ জানুয়ারি ‘সবাই শহিদ মিনার’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সরকারি কর্মীরা এই মহা সমাবেশে যোগ দেবেন। তাঁদের দাবি স্পষ্ট—কেন্দ্রীয় হারে ডিএ এবং বকেয়া মেটানোর জন্য স্থায়ী আদেশনামা জারি করতে হবে। রাজ্য বাজেটে লোকদেখানো কোনো ঘোষণা নয়, বরং এআইসিপিআই (AICPI) বা সর্বভারতীয় মূল্যসূচক মেনেই বেতন কাঠামো চায় কর্মী সংগঠনগুলি।
এখন দেখার, ভোটের মুখে রাজ্য সরকার কর্মীদের দাবি মেনে বাস্তবসম্মত কোনো পদক্ষেপ করে, নাকি ফের প্রতিশ্রুতির প্যাঁচেই আটকে থাকে বেতন বৃদ্ধির স্বপ্ন।