নিউজ ডেস্ক: বুধবার সকালে পরিত্যক্ত কুয়োর অন্ধকার থেকে ভেসে আসছিল সেই হাড়হিম করা গর্জন। কৌতূহলবশত উঁকি দিতেই চক্ষু চড়কগাছ গৃহস্থের। দেখা যায়, কুয়োর গভীর গহ্বরে আটকে পড়ে ছটফট করছে এক বিশালাকায় পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ। সামসিং চা বাগানের লোয়ার লাইন এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার দিনভর চলল রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে ঘুমপাড়ানি গুলিতে বাঘটিকে কাবু করে উদ্ধার করল বনদপ্তর।
অন্ধকার কুয়োয় হাড়হিম গর্জন: স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে সামসিংয়ের লোয়ার লাইনের বাসিন্দা জীবন শর্মার বাড়ির একটি পরিত্যক্ত কুয়োর ভেতর থেকে অদ্ভুত আওয়াজ শুনতে পান পরিবারের সদস্যরা। কাছে গিয়ে টর্চের আলো ফেলতেই দেখা যায়, ভেতরে একটি চিতাবাঘ পড়ে রয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই চা বাগান এলাকায় হুলুস্থুল পড়ে যায়। বাঘটি কুয়োর ভেতর থেকে বেরোনোর জন্য অনবরত গর্জন করতে থাকায় গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
বনদপ্তরের রুদ্ধশ্বাস উদ্ধারকাজ: খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান বনদপ্তরের খুনিয়া স্কোয়াডের কর্মীরা। তবে ভিড় সামলানো এবং গভীর কুয়ো থেকে চিতাবাঘটিকে নিরাপদে বের করে আনা ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। অবশেষে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার টানটান উত্তেজনার পর বনকর্মীরা ঘুমপাড়ানি গুলি (Tranquilizer gun) ছুড়ে চিতাবাঘটিকে অচৈতন্য করেন। এরপর জাল ও দড়ির সাহায্যে অত্যন্ত সাবধানে বাঘটিকে কুয়ো থেকে ওপরে তোলা হয়।
শারীরিক পরীক্ষা ও জঙ্গলে ফেরা: বনদপ্তর সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া চিতাবাঘটি সুস্থ ও পূর্ণবয়স্ক। সেটিকে বর্তমানে গরুমারা বা খুনিয়া রেঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে বনদপ্তরের চিকিৎসকরা তার শারীরিক পরীক্ষা করবেন। সব ঠিক থাকলে রাতেই সেটিকে ফের গভীর জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। চিতাবাঘটি উদ্ধার হতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন সামসিংয়ের বাসিন্দারা। চা বাগানের জনবসতি এলাকায় কীভাবে বাঘটি ঢুকল, তা খতিয়ে দেখছেন বনকর্তারা।