নিউজ ডেস্ক: ঝাড়গ্রামে ভোট মানেই যেমন রাজনৈতিক উত্তেজনা, তেমনই জঙ্গলমহলের চিরকালীন সঙ্গী হাতির উপদ্রব। বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলার সঙ্গে ঝাড়গ্রামেও চলছে ভোটগ্রহণ। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করলেও, ঝাড়গ্রামের পরিচিত হাতি ‘রামলাল’ যেন কোনও নিয়মেরই তোয়াক্কা করল না। বনদপ্তরের কড়া নজরবন্দি দশা কাটিয়ে এদিন সকালে সরাসরি ভোটকেন্দ্রের সামনে হাজির হয়ে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিল সে।
কড়া নিরাপত্তা ভেঙেই রামলালের ‘বুথ’ সফর: ভোটের ডিউটিতে মোতায়েন ৩০০ বনকর্মী, ২৫টি গাড়ি এবং কুইক রেসপন্স টিমকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এদিন সকালে ঝাড়গ্রামের জিতুশোল আংশিক বুনিয়াদি বিদ্যালয়ের সামনে হাজির হয় রামলাল। বুথের সামনে তাকে হেলেদুলে আসতে দেখে ভোটারদের মধ্যে একদিকে যেমন আতঙ্ক ছড়ায়, অন্যদিকে রামলালকে দেখার জন্য ভিড়ও জমে যায়। অনেকেই মোবাইলে বন্দি করতে থাকেন এই বিচিত্র দৃশ্য। তবে রামলাল ছিল নিজের খেয়ালেই মগন। হোস পাইপ দিয়ে জল ছিটিয়ে তাকে সরানোর চেষ্টা হলেও বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ করেনি সে।
অসুস্থতা কাটিয়ে ফের রাস্তায়: প্রসঙ্গত, সপ্তাহ দু’য়েক আগে এলাকা দখল নিয়ে অন্য একটি হাতি ‘শ্যামলাল’-এর সঙ্গে লড়াইয়ে সামনের ডান পায়ে গুরুতর চোট পেয়েছিল রামলাল। ক্যানালের জল-কাদায় যন্ত্রণায় ছটফট করা হাতিটিকে গ্রামবাসীরা চাঁদা তুলে আলু-আনাজ খাইয়েছিলেন। পরে বনদপ্তর ওষুধ খাইয়ে তাকে সুস্থ করে জঙ্গলে ফেরত পাঠায়। ভোটের দিন ফের যাতে কোনও ঝামেলা না হয়, সে জন্য তাকে জঙ্গলে নজরবন্দি করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু বন্দিদশা থেকে পালিয়েই সে এদিন লোকালয়ে ঢুকে পড়ে।
প্রশাসনের তৎপরতা ও প্রশ্ন: রাস্তায় পড়ে থাকা প্লাস্টিক থেকে খাবার খোঁজা হোক বা জনবহুল রাস্তায় পায়চারি— রামলালের উপস্থিতিতে ঝাড়গ্রাম শহরে বেশ কিছুক্ষণ উত্তেজনা বজায় ছিল। পরে খবর পেয়ে বন দপ্তরের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে এসে তাকে পাহারায় দিয়ে জঙ্গলের দিকে সরিয়ে নিয়ে যান। তবে এলিফ্যান্ট ট্র্যাকার্স টিম ও কিউআরটি (QRT) থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একটি হাতি এভাবে ভোটকেন্দ্রের একেবারে সামনে পৌঁছে গেল, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আপাতত জঙ্গলমহলের ভোটারদের রক্ষা করতে বনদপ্তর বাড়তি নজরদারি চালাচ্ছে।