নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে বড়সড় পদক্ষেপ নিল। আগামী ১ জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে চলেছে ‘অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার’ প্রকল্প। বুধবার বিধানসভায় বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার পরেই এই ঘোষণা করেন রাজ্যের নতুন নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার: কী কী সুবিধা পাবেন মহিলারা?
বিজেপির নির্বাচনী সংকল্পপত্র অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলারা প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। প্রকল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
-
বঞ্চিত হবেন না কেউ: পূর্বতন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ২ কোটি ৬১ লক্ষ উপভোক্তা তো বটেই, সেই সঙ্গে সমস্ত নতুন আবেদনকারী এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
-
অনলাইন আবেদন: এবার আর ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্পের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। বছরভর অনলাইনে আবেদনের জন্য একটি সহজ সরল পোর্টাল বা ওয়েবসাইট তৈরি করা হচ্ছে।
-
সরাসরি সহায়তা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র স্বপ্নকে সফল করতে এই অনলাইন পরিষেবা চালু করা হচ্ছে যাতে মহিলারা লাইনে না দাঁড়িয়েই নিজেরাই আবেদন করতে পারেন।
বার্ধক্য ও মোয়াজ্জেন ভাতাতেও বদল
অন্নপূর্ণার ভাণ্ডারের পাশাপাশি অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প নিয়েও ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে:
-
বার্ধক্য ভাতা: প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা চলছে যে বর্তমান ১০০০ টাকা বার্ধক্য ভাতাকে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করা হতে পারে। যদিও এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত হয়নি।
-
মোয়াজ্জেন ভাতা: এই ভাতা চালু থাকছে, তবে এবার থেকে টাকা সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া হবে।
সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে জরুরি শর্তাবলি
শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার কিছু বিশেষ নিয়মও স্পষ্ট করে দিয়েছে:
-
এসআইআর (SIR) তালিকা: যাঁদের নাম এসআইআর থেকে বাদ পড়েছে, তাঁরা কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
-
বিচারাধীন ও সিএএ (CAA) আবেদনকারী: ট্রাইব্যুনালে যাঁদের নাম বিচারাধীন অথবা যাঁরা সিএএ-র অধীনে নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন, তাঁদের সমস্ত সরকারি সুবিধা স্বাভাবিক ছন্দেই বজায় থাকবে।
আগামী ১ জুন থেকে টাকা দেওয়া শুরু হবে বলে নারী ও শিশুকল্যাণ দপ্তর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পোর্টাল চালুর কাজ শুরু করেছে।