নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধ মেঘের ছায়া এবার সরাসরি রান্নাঘরে। আমেরিকা, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলা সংঘর্ষ থামার কোনও লক্ষণ না থাকায় ভারতের রান্নার গ্যাস বা এলপিজি (LPG) সরবরাহে বড়সড় সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মূলত হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় গ্যাস আমদানিতে তৈরি হয়েছে চরম অচলাবস্থা। এই পরিস্থিতিতে জোগান স্বাভাবিক রাখতে এবার ঘরোয়া সিলিন্ডারের ওজন কমিয়ে দেওয়ার পথে হাঁটতে পারে কেন্দ্র।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক সূত্রে খবর, বর্তমানে ঘরোয়া সিলিন্ডারে ১৪.২ কেজি গ্যাস থাকে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সেই পরিমাণ কমিয়ে ৭ বা ১০ কেজি করা হতে পারে। একইভাবে ১০ কেজির প্লাস্টিক সিলিন্ডারে গ্যাসের পরিমাণ কমিয়ে ৫ কেজি করার প্রাথমিক আলোচনা সেরে রেখেছে কেন্দ্র। ওজনের ভিত্তিতেই গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হবে। তবে ওজনের হেরফের হলেও সিলিন্ডার বুকিংয়ের নিয়মে অর্থাৎ নির্দিষ্ট দিনের ব্যবধানে (শহরাঞ্চলে ২৫ দিন ও গ্রামাঞ্চলে ৪৫ দিন) কোনও বদল আসছে না। এর ফলে পরোক্ষভাবে সাধারণ মানুষকে গ্যাসের ব্যবহার কমাতে বাধ্য করা হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ভারতের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশই আসে হরমুজ প্রণালী হয়ে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এই পথে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হওয়ায় দেশের মজুত ভাণ্ডারে টান পড়েছে। অন্যদিকে, গ্যাস বুকিং ও ডেলিভারি নিয়েও গ্রাহকদের ভোগান্তি তুঙ্গে। বুকিং রেফারেন্স পেলেও মিলছে না ডেলিভারি অথেন্টিকেশন কোড (DAC)। ডিস্ট্রিবিউটরদের দাবি, এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ তেল সংস্থাগুলির নিয়ন্ত্রণে। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের জোগান সাময়িকভাবে বাড়ানোর কথা বলা হলেও, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিচার করে আগামী সপ্তাহেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। গৃহস্থের কপালে আরও চিন্তার ভাঁজ ফেলে গ্যাসের দাম ফের এক দফা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।