নিউজ ডেস্ক: লটারির জয়ী নম্বর জাল করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার এক বিশাল কারবারের হদিশ পেল হুগলি গ্রামীণ পুলিশ। ভিনরাজ্যের যোগ থাকা এই আন্তঃরাজ্য চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চণ্ডীতলা থানার পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে জাল আধার কার্ড, প্রচুর এটিএম কার্ড এবং লটারি তৈরির উন্নত মানের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি চণ্ডীতলা থানায় প্রথম এই প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন সন্দীপ ঘোষ নামে এক লটারি ব্যবসায়ী। অভিযোগ অনুযায়ী, দুই ব্যক্তি তাঁর দোকানে এসে কিছু লটারি টিকিট দেখিয়ে দাবি করে যে সেগুলিতে ৩ লক্ষ টাকা পুরস্কার লেগেছে। দোকানদারকে প্রলোভন দেখিয়ে তারা টিকিটগুলো তাঁর কাছেই রেখে যায় এবং বিশ্বাস অর্জনের জন্য কিছু নতুন টিকিট কেনে। সরল বিশ্বাসে সন্দীপবাবু তাদের দেওয়া একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অগ্রিম টাকা পাঠিয়ে দেন। পরে টিকিটগুলো মূল এজেন্সিতে জমা দিলে তিনি জানতে পারেন যে সেগুলি সম্পূর্ণ জাল।
তদন্তে নেমে চণ্ডীতলা থানার পুলিশ এবং হুগলি গ্রামীণ এসওজি (SOG) মগরা থানার কুন্তীঘাট এলাকা থেকে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতরা হলো— সুরজিৎ সরকার (বলাগড়), কাজল শেখ (মালদা) এবং প্রীতম সনি (মুম্বই)।
আদালতের নির্দেশে ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ তাদের ভাড়া বাড়িতে একটি জাল লটারি তৈরির মিনি কারখানার হদিশ পায়। সেখান থেকে একটি ল্যাপটপ, দুটি উচ্চমানের প্রিন্টার, লটারি কাটার স্কেলিং বোর্ড, প্রিন্টিং কাগজ, ৯টি মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন ব্যক্তির নামে প্রায় ৪০টি এটিএম কার্ড ও জাল আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে একটি চারচাকা গাড়িও।
শনিবার চণ্ডীতলা থানায় এক সাংবাদিক বৈঠকে এসডিপিও (SDPO) তমাল সরকার জানান, এই চক্রটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করত। জয়ী লটারির নম্বর স্ক্যান করে নিখুঁতভাবে জাল টিকিট তৈরি করত তারা। মুম্বইয়ের বাসিন্দা প্রীতম সনির এই চক্রে উপস্থিতি ভিনরাজ্যে ছড়িয়ে থাকা আরও বড় নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ধৃতদের জেরা করে এই চক্রের নেপথ্যে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।