নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ পাঁচ বছরের অপেক্ষার অবসান। অবশেষে বিধানসভায় খাতা খুলল বামেরা। সোমবার ফল ঘোষণা হতেই দেখা যায়, মুর্শিদাবাদের ডোমকল বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন সিপিএম প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক হুমায়ুন কবিরকে পরাজিত করে তিনি বিধানসভায় লাল ঝাণ্ডা পৌঁছে দিয়েছেন। এই জয়ের ফলে ২০২৬-এর নির্বাচনে বামেদের ‘শূন্য’ থাকার কলঙ্ক ঘুচলেও রাজ্যের সামগ্রিক ফলাফলে তরুণ ব্রিগেডের পারফরম্যান্স আলিমুদ্দিন স্ট্রিটকে কিছুটা চিন্তায় রেখেছে।
ডোমকল কেন্দ্রে প্রথম থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল সিপিএম নেতৃত্ব। ৪২ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে মোস্তাফিজুর রহমান যখন জয়ের শংসাপত্র হাতে নিলেন, তখন মুর্শিদাবাদে দীর্ঘ বিরতির পর ওড়াতে দেখা গেল লাল আবির। যদিও রাজ্যে সিপিএমের সামগ্রিক ভোট শতাংশ ৪.৪৫ শতাংশের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এই জয়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও তরুণ প্রজন্মের প্রার্থীদের ফল আশানুরূপ না হওয়ায় কিছুটা হতাশ। তাঁর মতে, কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না হওয়া এবং তীব্র মেরুকরণের ফলে মানুষ বিকল্প হিসেবে বিজেপিকেই বেছে নিয়েছে।
তরুণ ব্রিগেডের সবথেকে বড় লড়াই ছিল হুগলির উত্তরপাড়ায়। সেখানে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় গতবারের তুলনায় তাঁর ভোট শতাংশ বহুগুণ বাড়িয়ে প্রায় ২৪.২৫ শতাংশে নিয়ে গিয়েছেন এবং নিজের আমানত রক্ষা করেছেন। যদিও শেষ পর্যন্ত বিজেপির দীপঞ্জন চক্রবর্তীর কাছে তাঁকে হার মানতে হয়েছে এবং তিনি তৃতীয় স্থানে শেষ করেছেন। একইভাবে দমদম উত্তরে দীপ্সিতা ধর, রাজারহাট-নিউটাউনে সপ্তর্ষি দেব এবং পানিহাটিতে কলতান দাশগুপ্ত লড়াকু মানসিকতা দেখালেও জয়ের মুখ দেখতে পাননি।
সুজন চক্রবর্তীর অভিযোগ, তৃণমূল সচেতনভাবেই বিজেপিকে প্রধান বিরোধী হিসেবে জায়গা করে দিয়েছে, যার খেসারত দিতে হয়েছে বামপন্থীদের। তবে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট মনে করছে, এই তরুণ ব্রিগেডের হাত ধরেই দীর্ঘমেয়াদী লড়াইয়ে ফিরবে পার্টি। ডোমকলের জয় বাম কর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণসঞ্চার করলেও, আগামীর লড়াই যে আরও কঠিন— সোমবারের ফলাফল তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।