নিউজ ডেস্ক: বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। স্বাধীনতার পরবর্তী দীর্ঘ কয়েক দশকে যা কখনও ঘটেনি, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দিনেই সেই নজির তৈরি হলো। বৃহস্পতিবার দিনশেষে তথ্য বলছে, পশ্চিমবঙ্গের ১৫২টি কেন্দ্রে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত ভোটদানের হার ৯১.৯১ শতাংশ। বাঙালির এই বিপুল গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ দেখে খোদ ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারও বিস্মিত।
রেকর্ড ভাঙা ভোটদান: ভোটের শুরু থেকেই বুথে বুথে ছিল ভোটারদের লম্বা লাইন। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে তীব্র দাবদাহ উপেক্ষা করে সকাল থেকেই মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে বেরিয়ে আসেন। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামলেও অনেক বুথে লাইনে ভিড় দেখা গিয়েছে। শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৫২টি আসনে ভোটের গড় হার ৯১.৯১ শতাংশ স্পর্শ করেছে, যা একটি সর্বকালীন রেকর্ড।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কুর্নিশ: প্রথম দফার এই অভূতপূর্ব সাফল্যের পর দিল্লির নির্বাচন সদনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পরে পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুতে সর্বোচ্চ ভোটদান হয়েছে। এটি গণতন্ত্রের এক উজ্জ্বল জয়। পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর সকল ভোটারকে আমি কুর্নিশ জানাই।” কমিশনের মতে, ভোটারদের এই বিপুল উপস্থিতি প্রমাণ করে যে নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ: সাধারণত ভোটদানের হার বাড়লে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়। কোনও পক্ষ মনে করে এটি প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়ার ফল, আবার কোনও পক্ষ একে উন্নয়নের পক্ষে রায় হিসেবে দেখে। তবে ৯১.৯১ শতাংশের এই বিশাল অংক সব হিসেবকেই নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল এবং মহিলা ভোটারদের যে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে, তা এই রেকর্ড গড়ার পেছনে বড় ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত এই ‘রেকর্ড’ ভোট কার পক্ষে যাবে, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে শাসক ও বিরোধী শিবিরে।