নিউজ ডেস্ক: সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে যখন মাঝেমধ্যেই প্রশ্ন ওঠে, ঠিক তখনই নজিরবিহীন সাফল্যের সাক্ষী থাকল বালুরঘাট জেলা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। এক প্রৌঢ়ার দু’টুকরো হয়ে যাওয়া পায়ের হাড় সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জুড়ে দিয়ে অসাধ্য সাধন করলেন সেখানকার চিকিৎসকরা। উত্তরবঙ্গের এই সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো ও চিকিৎসকদের দক্ষতায় কার্যত নতুন জীবন ফিরে পেলেন বালুরঘাট শহরের খিদিরপুরের বাসিন্দা কল্যাণী বক্সি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৬ই মার্চ গরুকে স্নান করাতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যান কল্যাণী দেবী। দুর্ঘটনার অভিঘাত এতটাই বেশি ছিল যে তাঁর কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত প্রধান হাড়টি (Femur) সম্পূর্ণ দু’টুকরো হয়ে যায়। যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকা ওই প্রৌঢ়াকে তড়িঘড়ি বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিস্থিতি বিচার করে হাসপাতালের সুপার বাসুদেব মণ্ডলের নির্দেশে দ্রুত একটি বিশেষ মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়। সেই বিশেষজ্ঞ দলই দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে তাঁর পা জোড়া লাগাতে সক্ষম হন।
এই সাফল্যে খুশি রোগীর পরিবারও। কল্যাণী দেবীর মেয়ে বেদত্রয়ী বর্মন জানান, “বাইরের বেসরকারি হাসপাতালে এই অস্ত্রোপচারের খরচ বহন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। সরকারি হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই পরিষেবা পেয়ে আমরা চিরকৃতজ্ঞ। মা এখন অনেকটাই সুস্থ।” হাসপাতালের এই সাফল্য প্রমাণ করে দিল যে সদিচ্ছা ও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে জেলা স্তরের সরকারি হাসপাতালেও জটিল চিকিৎসা সম্ভব। বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন ওই প্রৌঢ়া।