নিউজ ডেস্ক: প্রচারে অভিনবত্ব আনতে গিয়ে যে এমন বিপত্তি ঘটবে, তা বোধহয় দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি আউশগ্রামের তৃণমূল নেতৃত্ব। পেট্রল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গরুর গাড়ি নিয়ে মিছিল করতে গিয়ে কার্যত নাজেহাল হতে হলো জোড়াফুল শিবিরের প্রার্থী ও সাংসদকে। গরুর দাপটে মিছিলে হুড়োহুড়ি পড়ে যাওয়ায় প্রাণ হাতে ছুটতে দেখা গেল কর্মী-সমর্থকদের। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শেষ পর্যন্ত গাড়ি ছেড়ে পায়ে হেঁটেই প্রচার সারলেন নেতৃত্ব।
প্রতিবাদের ছক বনাম গরুর দাপট: শুক্রবার আউশগ্রাম-২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি সেখ আব্দুল লালনের উদ্যোগে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে এই অভিনব মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল দ্বিবিধ— এক, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ এবং দুই, কমিশনের বাইক মিছিলে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতীকী লড়াই। কিন্তু মিছিল শুরু হতেই বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ আর মানুষের ভিড়ে মেজাজ হারায় গরুর দল। শান্ত অবলা প্রাণীগুলি হঠাৎই অশান্ত হয়ে ছুটতে শুরু করলে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় মিছিল। গাড়িতে থাকা তৃণমূল প্রার্থী শ্যামাপ্রসন্ন লোহার ও সাংসদ শর্মিলা সরকার আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
জ্বালানি জ্বালায় গরুর গাড়িই ভরসা: বিপত্তি সত্ত্বেও নিজের অবস্থানে অনড় ব্লক সভাপতি আব্দুল লালন। তিনি বলেন, “গ্যাস ও তেলের দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে জঙ্গলমহলের মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত। তাই গরুর গাড়িই এখন সেরা বিকল্প।” প্রার্থী শ্যামাপ্রসন্নবাবুর কথায়, “ডিজেলের যা দাম, তাতে আগামী দিনে আমাদের গরুর গাড়িতেই যাতায়াত করতে হবে।” তবে গত এক দশকে গ্রামবাংলায় গরুর গাড়ির সংখ্যা এতটাই কমেছে যে, এই মিছিলে ব্যবহারের জন্য গরু জোগাড় করতে কালঘাম ছুটেছে আয়োজকদের।
বিজেপির কটাক্ষ: তৃণমূলের এই ‘ফ্লপ শো’ নিয়ে আসরে নামতে দেরি করেনি গেরুয়া শিবির। স্থানীয় বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্রের বিদ্রুপ, “গরুও বুঝতে পেরেছে তৃণমূলের বিদায় আসন্ন। তাই তারা তৃণমূলের সমর্থনে হাঁটতে অস্বীকার করে প্রতিবাদ জানিয়েছে।” সব মিলিয়ে, আউশগ্রামের এই গরুর গাড়ির মিছিল ভোট-রাজনীতির ময়দানে হাসির খোরাক জুগিয়েছে শনিবার।