নিউজ ডেস্ক: দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ফের টাকা উদ্ধারকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। শুক্রবার রাতে হুগলি জেলার ধনেখালি এলাকায় একটি গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করল পুলিশ। ২৯ তারিখ হুগলিতে ভোটগ্রহণ, তার ঠিক আগেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোরদার রাজনৈতিক চাপান-উতোর। তৃণমূলের সরাসরি অভিযোগ, ভোট কেনার জন্য গ্রামে টাকা বিলি করতে এসেছিল বিজেপি। যদিও গেরুয়া শিবির এই অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছে।

গ্রামবাসীদের তৎপরতায় পাকড়াও: পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতে ধনেখালির সোমসপুর দক্ষিণ শিমলা গ্রামে একটি সাদা রঙের সন্দেহভাজন গাড়িকে ঘুরতে দেখেন গ্রামবাসীরা। গাড়ির ভেতর এলাকার বাইরের লোকজন থাকায় সন্দেহ আরও দানা বাঁধে। গ্রামবাসীরাই খবর দেন পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনকে। তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়িটিতে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে থরে থরে সাজানো নোট। উদ্ধার হয়েছে মোট ২ লক্ষ ১০ হাজার ৮৮০ টাকা।

টাকার উৎস নিয়ে ধোঁয়াশা: পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা ওই বিপুল অর্থের কোনও বৈধ উৎস বা কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটের মুখে সঠিক তথ্য ছাড়া নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি টাকা বহন করা দণ্ডনীয়। সেই কারণেই ২ লক্ষাধিক টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। টাকার পাশাপাশি গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।

অসীমা বনাম বর্ণালী: তুঙ্গে রাজনৈতিক লড়াই: টাকা উদ্ধার হতেই আসরে নেমেছেন ধনেখালি কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অসীমা পাত্র। তাঁর দাবি, “ওই গাড়িতে ভিন রাজ্যের এক ব্যক্তির পাশাপাশি স্থানীয় এক বিজেপি নেতাও ছিলেন। ভোট কেনার জন্যই গ্রামে টাকা বিলি করতে এসেছিল বিজেপি, গ্রামবাসীরা হাতে-নাতে ধরে ফেলেছে।” পাল্টা জবাবে ধনেখালির বিজেপি প্রার্থী বর্ণালী দাস বলেন, “তৃণমূল টাকা দিয়ে ভোট কেনে, এটা সবাই জানে। এই ঘটনার পিছনে তৃণমূলের কোনও গভীর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।” ভোটের মুখে ধনেখালির এই ‘টাকা-কাণ্ড’ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Share on Social Media