নিউজ ডেস্ক: মালদহের ইংরেজবাজার থানার খাসখোল এলাকায় এক মহিলার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকালে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। মৃত মহিলার নাম দয়া চৌধুরী (৪৬)। স্বামীর মৃত্যুর পর ওই বাড়িতে তিনি একাই থাকতেন। শুক্রবার সকালে ঘর থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধারের পর ঘাতকদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। এদিকে এই ঘটনায় এলাকার মাদকাসক্তদের দিকেই আঙুল তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর দুয়েক আগে দয়াদেবীর স্বামী সুবোধ চৌধুরী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাঁদের একমাত্র ছেলে ভিনরাজ্যে কর্মরত এবং দুই মেয়েরই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ফলে মিলকি আউটপোস্টের অন্তর্গত খাসখোল এলাকার ওই বাড়িতে একাই দিন কাটত দয়াদেবীর। প্রতিবেশীদের ধারণা, একা থাকার সুযোগ নিয়েই দুষ্কৃতীরা এই নৃশংস কাণ্ড ঘটিয়েছে।
পরিবার সূত্রে খবর, গত বৃহস্পতিবার রাতেও দয়াদেবী তাঁর মেয়েদের সঙ্গে ফোনে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেছিলেন। শুক্রবার সকালে যথারীতি এক গোয়ালা বাড়িতে দুধ দিতে এসে ডাকাডাকি শুরু করেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ সাড়া না মেলায় তাঁর সন্দেহ হয়। তিনি প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান। এরপর পাড়ার লোকজন জানলা দিয়ে উঁকি মারতেই শিউরে ওঠেন। দেখা যায়, ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন ওই মহিলা।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। তারা দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এলাকায় নেশার কারবার ও মাদকাসক্তদের দৌরাত্ম্য চরমে পৌঁছেছে। নেশার টাকা জোগাড় করতে চুরির উদ্দেশ্যে এই খুন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ইংরেজবাজার থানার পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। পরিবারের তরফে এখনও লিখিত অভিযোগ না এলেও পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।