নিউজ ডেস্ক: পরীক্ষা শেষ হয়েছে মাত্র কয়েক দিন আগে। সামনেই ছিল আগামীর হাতছানি, উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন। কিন্তু রেজাল্ট আউটের আগেই সব শেষ হয়ে গেল। মালদার বামনগোলা থানার পাকুয়াহাট এলাকায় এক উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সাতসকালে নিজের ঘর থেকেই উদ্ধার হয় মেহক বিশ্বাস (১৮) নামে ওই ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ। এক মেধাবী ছাত্রীর এমন অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মেহক পাকুয়াহাট এএনএম হাইস্কুলের কলা বিভাগের ছাত্রী ছিল। এ বছরই সে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল। বাবা আশুতোষ বিশ্বাস পেশায় কৃষক, মা লিপিকা বিশ্বাস গৃহবধূ। তিন বোনের মধ্যে মেহকই ছিল সবার বড়। পরিবারের দাবি, বুধবার রাতে গ্রামের একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন বাড়ির সকলে। মেহক বাড়িতে একাই ছিল। অনুষ্ঠান সেরে রাতে বাবা-মা ও দুই বোন ফিরে আসতেই দেখেন, ঘরের সিলিং থেকে ওড়নার সাহায্যে ঝুলছে মেহকের নিথর দেহ। তড়িঘড়ি উদ্ধার করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
মেহকের বাবা আশুতোষ বিশ্বাস শোকে পাথর হয়ে গিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা গ্রামের একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম, বড় মেয়ে যায়নি। ফিরে এসেই দেখি ও ঘরের মধ্যে ঝুলছে। আচমকা কেন এমন কাণ্ড ঘটাল, কিছুই বুঝতে পারছি না।” পরিবারের দাবি, মেহকের ব্যবহারে আগে কোনও অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়নি।
খবর পেয়ে বামনগোলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে মনে করা হলেও, এর পিছনে অন্য কোনও মানসিক চাপ বা কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে ছাত্রীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রেমঘটিত কোনও জটিলতা বা অন্য কোনও ব্যক্তিগত কারণ রয়েছে কি না, তা জানতে কল লিস্ট ও চ্যাট পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।