নিউজ ডেস্ক: ভোট এলেই যেন বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে ভাঙড়। রাজনীতির কারবারিদের কাছে এ এক চেনা ছবি। গত ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সেই ভয়াবহ স্মৃতি এখনও অমলিন, যেখানে সাত-সাতটি প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল রাজনৈতিক সংঘাত। জখম হয়েছিলেন পুলিশকর্মীরাও। সেই রক্তাক্ত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি রুখতে এ বার বিধানসভা নির্বাচনের আগে কোমর বেঁধে ময়দানে নামল প্রশাসন। শনিবার ভাঙড়ের অতি স্পর্শকাতর এলাকাগুলি পরিদর্শন করলেন খোদ পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ। সঙ্গে ছিলেন জয়েন্ট সিপি (ট্রাফিক ও ক্রাইম) রূপেশ কুমার, ভাঙড় ডিভিশনের ডিসি মণীশ যোশী-সহ একঝাঁক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক।
এ দিন বিজয়গঞ্জ বাজারের ঘিঞ্জি এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ রুটমার্চ করেন পুলিশকর্তারা। কেবল টহলদারিই নয়, খোদ কমিশনার কথা বলেন স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং পথচারীদের সঙ্গে। এলাকায় কোনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে কি না বা কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ভীতিপ্রদর্শন করা হচ্ছে কি না, তা সরাসরি মানুষের কাছে জানতে চান অজয় নন্দ। আমজনতাকে নির্ভয়ে বুথমুখী হওয়ার অভয় দেন তিনি।
কমিশন সূত্রে খবর, ভাঙড় বিধানসভা এলাকায় ইতিমধ্যেই ৫০টিরও বেশি বুথকে ‘স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষত পানাপুকুর, সাতুলিয়া, হাতিশালা এবং শোনপুরের মতো এলাকাগুলিতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। কমিশনারের এই সক্রিয়তা নিচুতলার পুলিশ কর্মীদের কাছে স্পষ্ট বার্তা— আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনওরকম আপস করা হবে না। অশান্তির ছক কষা হলে তার মোকাবিলায় যে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ প্রস্তুত, এ দিনের পদযাত্রায় সেই হুঙ্কারই যেন প্রতিধ্বনিত হলো ভাঙড়ের অলিগলিতে।