নিউজ ডেস্ক: ভোট মিটলেই কি ফিরবে সেই চেনা ভাঙড়? বৃহস্পতিবার সাতসকালে লঙ্কা খেত থেকে সাত-সাতটি তাজা বোমা উদ্ধার হতেই এই প্রশ্নটা ফের জোরালো হয়ে উঠল তিলোত্তমার পড়শি এলাকায়। বুধবার গোটা দিন শান্তিতে ভোট মিটলেও, চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সেই চেনা ছবি ফিরল ভাঙড়ে।
পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তর কাশীপুর থানার ভোগালি এলাকায় একটি লঙ্কা খেত থেকে এই বোমাগুলি উদ্ধার হয়। কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে এগুলি মজুত করেছিল তা জানতে ইতিমধেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ভোটের দিন কোনো বড় অশান্তি বা চোখরাঙানি না থাকলেও, ভোট মিটতেই নতুন করে বোমা মেলায় এলাকায় রীতিমতো বিরক্তি ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভাঙড়ের ছবিটা ছিল অত্যন্ত থমথমে। ঘটকপুকুর, কাঁঠালিয়া, বিজয়গঞ্জ বাজার থেকে শুরু করে শোনপুর বাজার— সর্বত্রই ছিল কার্যত অঘোষিত বনধের পরিবেশ। রাস্তাঘাটে যানবাহনের সংখ্যা ছিল হাতেগোনা, দোকানপাটও খোলেনি বললেই চলে। গ্রামের মোড়ে যে চায়ের দোকানে ভোটের পর জমজমাট আড্ডা হওয়ার কথা, সেখানেও এদিন ছিল শ্মশানের নিস্তব্ধতা। পুলিশের গাড়ির টহলদারি ছাড়া সাধারণ মানুষের দেখা মিলেছে খুব কম।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, “ভোট মিটে গেলেও এখনও আতঙ্ক কাটছে না। গণনা না হওয়া পর্যন্ত শান্তি ফেরার কোনো নিশ্চয়তা নেই।” ভাঙড় কলেজের সামনের দোকানদাররাও প্রায় সবাই ব্যবসা বন্ধ রেখেছেন। অনেকেরই আশঙ্কা, ফল প্রকাশের পর নতুন করে হিংসা শুরু হতে পারে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের কড়া নজরদারির মধ্যেই ভাঙড় এখন দিন গুনছে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার।