নিউজ ডেস্ক: উত্তর কলকাতা মানেই তৃণমূল— গত দু’দশকের এই চেনা সমীকরণ ওলটপালট হয়ে গেল ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে। ২০০১ সাল থেকে জোড়াসাঁকো এবং কাশীপুর-বেলগাছিয়া ছিল তৃণমূলের অবিভদ্য দুর্গ। ২০১১ সালে সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছিল শ্যামপুকুর। কিন্তু সোমবারের গেরুয়া ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল ঘাসফুল শিবিরের সমস্ত রেকর্ড। পরাজয় স্বীকার করতে হলো রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রী শশী পাঁজা এবং কলকাতার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষকে।
নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই তিন কেন্দ্রের গণনায় সকাল থেকেই বিজেপির জয়জয়কার শুরু হয়। মোট ২১ রাউন্ডের গণনায় অধিকাংশ সময়ই এগিয়ে ছিলেন বিজেপি প্রার্থীরা। জোড়াসাঁকো কেন্দ্রে বিজেপির বিজয় ওঝা ৫৭৯৭ ভোটে জয়ী হয়েছেন। এখানে বিদায়ী বিধায়ক বিবেক গুপ্তর পরিবর্তে বিজয় উপাধ্যায়কে প্রার্থী করেও হারের মুখ দেখতে হয়েছে তৃণমূলকে। অন্যদিকে, শ্যামপুকুর কেন্দ্রে বড় ধাক্কা খেয়েছেন মন্ত্রী শশী পাঁজা। তাঁকে ১৪,৬৩৩ ভোটে পরাজিত করেছেন বিজেপির পূর্ণিমা চক্রবর্তী। সমাজকল্যাণ ও শিল্প দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানো শশীর এই হার উত্তর কলকাতার রাজনীতিতে বড়সড় ইন্দ্রপতন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে সবথেকে বেশি উত্তেজনা ছিল কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্র নিয়ে। সেখানে তৃণমূলের দাপুটে নেতা অতীন ঘোষ এবং বিজেপির রীতেশ তিওয়ারির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলে। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৬৫১ ভোটে জয়ী হয়ে অঘটন ঘটান রীতেশ। অতীনের এই পরাজয় তাঁর অনুগামী ও কাউন্টিং এজেন্টদের কাছে ছিল কার্যত অবিশ্বাস্য।
এদিন নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম চত্বর কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলেছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কিউআর কোড স্ক্যান করে গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের কড়াকড়িতে জওয়ানদের সঙ্গে এজেন্টদের বচসাও বাধে। সকাল সাড়ে আটটায় গণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই গেরুয়া ঝড়ের দাপটে একে একে হাতছাড়া হয় তৃণমূলের সাজানো বাগান। উত্তর কলকাতার এই ফল রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপির জমি আরও শক্ত করল।