নিউজ ডেস্ক: বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ইতিহাসে সবথেকে বড় এবং নজিরবিহীন অঘটনটি ঘটল খাস কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে। রাত ৮টা ১০ মিনিটে যখন ১৬ রাউন্ডের গণনা শেষ হলো, তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে রাজনীতির ‘খেলা’ ঘুরে গিয়েছে। এক সময়ের বিশ্বস্ত সেনাপতি শুভেন্দু অধিকারীর কাছে নিজের খাসতালুক ভবানীপুরেই হার স্বীকার করতে হলো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ২০ রাউন্ডের গণনা শেষে রিটার্নিং অফিসার ঘোষণা করেন, ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন সকাল থেকেই ভবানীপুরের গণনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। প্রথম কয়েক রাউন্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগিয়ে থাকলেও, ১২টার পর থেকেই পাশা উল্টাতে শুরু করে। ষষ্ঠ রাউন্ড শেষে যেখানে মমতা ১৯ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলেন, সপ্তম রাউন্ড থেকে সেই ব্যবধান কমতে শুরু করে। ১৬ রাউন্ড শেষে ৫৬৩ ভোটে শুভেন্দু এগিয়ে যাওয়ার পর গেরুয়া শিবিরের লিড আর কেউ রুখতে পারেনি। জয়ের শংসাপত্র নিয়ে বেরিয়ে এসে শুভেন্দু অধিকারী এই জয়কে ‘পরিবর্তন ও হিন্দুদের জয়’ বলে অভিহিত করেন।
অন্যদিকে, পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন যোগসাজশ করে তাঁকে জোর করে হারিয়েছে। তাঁর এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়া এবং গণনাকেন্দ্র ‘দখল’ করার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। বিজেপিকে ‘দানবিক পার্টি’ আখ্যা দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে তৃণমূল আবার ক্ষমতায় ফিরবে।
ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ইতিহাসে কোনও আসীন মুখ্যমন্ত্রীকে পরপর দুবার বিধানসভা ভোটে (২০২১-এ নন্দীগ্রাম ও ২০২৬-এ ভবানীপুর) হারানোর বিরল নজির গড়লেন শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরের এই ফল কার্যত রাজ্যের সামগ্রিক ‘গেরুয়া ঝড়ের’ প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের ‘ঘরের মেয়ে’কে ভবানীপুরের মানুষ প্রত্যাখ্যান করায় এখন তৃণমূলের অন্দরেও শুরু হয়েছে ময়নাতদন্ত।