নিউজ ডেস্ক: বিপুল অর্থ আর শ্রম ব্যয় করে তৈরি করা ভোটার তালিকায় এ বার বড়সড় গলদের হদিস মিলল আসানসোলে। একই বুথে, একই ব্যক্তির নাম ভোটার লিস্টে চার-চার বার! শুধু নাম নয়, প্রতিটি নামের পাশে রয়েছে পৃথক পৃথক এপিক (EPIC) নম্বর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শাসক দল তৃণমূল এবং কংগ্রেসের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করে এবং কমিশনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে ভোট চুরির লক্ষ্যেই এই ‘পরিকল্পিত ত্রুটি’ রাখা হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী তথা আসানসোল উত্তর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মলয় ঘটক।
আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের ১৭১ নম্বর পার্টে এই চমকপ্রদ অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। ভোটার তালিকায় দেখা যাচ্ছে আসানসোল পুরসভার ৭৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রবি চৌধুরী (পিতা ঈশ্বর দয়াল চৌধুরী) নামে এক ব্যক্তির নাম তালিকায় চার জায়গায় রয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, চার ক্ষেত্রেই বাবার নাম, ঠিকানা এবং বয়স (৪৫ বছর) হুবহু এক। এমনকি ছবিগুলিও একই ব্যক্তির। কেবল বদলে গিয়েছে এপিক নম্বরগুলি। প্রথম ক্ষেত্রে এপিক নম্বর ‘এওজে ৩০৩৫৬১৫’, দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ‘এওজে ৩০৬৪৭১৪’, তৃতীয়বার ‘এওজে ৩০৬৫১৩৩’ এবং চতুর্থবার ‘এওজে ৩০৬৬৩৭০’। অর্থাৎ এক জন নাগরিকের নামেই চার-চারটি পরিচয়পত্র ইস্যু করা হয়েছে।
পেশায় প্রথিতযশা আইনজীবী মলয় ঘটক এই ঘটনাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত জালিয়াতি’ বলে বর্ণনা করেছেন। আসানসোলের মহকুমা শাসক তথা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার অঘোরকুমার রায়কে দেওয়া চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, আসল ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে ভোটার তালিকায় ভুয়ো নাম ঢোকানোর জন্য নির্বাচন কমিশনের যান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অপব্যবহার করা হচ্ছে। ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে যে দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা তৈরি হয়েছে, সেখানেই এই মারাত্মক ত্রুটি ধরা পড়েছে। এ প্রসঙ্গে আসানসোলের মহকুমা শাসক অঘোরকুমার রায় জানিয়েছেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনের মুখে এমন ঘটনা কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।