নিউজ ডেস্ক: উৎসবের রাত নিমেষেই বদলে গেল বিষাদে। স্ত্রী ও সন্তানের সামনেই প্রকাশ্য রাস্তায় মারধরের শিকার হলেন এক যুবক। শনিবার সকালে নিজের ফ্ল্যাটেই রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হলো তাঁর। পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে দেবদীপ চট্টোপাধ্যায় (৪২) নামে ওই কংগ্রেস সমর্থকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। ঘটনার নেপথ্যে স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলারের অনুগামীদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস। শাসকদল অবশ্য দায় অস্বীকার করেছে।
জন্মদিনের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথেই হামলা: শুক্রবার রাতে আসানসোলের কল্যাণপুর হাউসিং এলাকার অনন্যা কমপ্লেক্সের বাসিন্দা দেবদীপ সপরিবারে একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলেন। রাত দুটো নাগাদ ভগত সিং মোড়ে একটি গাড়ির আরোহীদের সঙ্গে মোটরবাইক আরোহী দেবদীপের বচসা হয়। অভিযোগ, ওই গাড়িটি ধাওয়া করে এসে আবাসনের গেটের সামনেই দেবদীপকে ঘিরে ধরে এবং বেধড়ক মারধর শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, স্ত্রী ও সন্তানের সামনেই চলল নারকীয় নির্যাতন।
পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ: নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর পুলিশ সেখানে গেলেও জখম দেবদীপকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কোনও তৎপরতা দেখায়নি। বরং পুলিশ তাঁকে বাড়ি নিয়ে যেতে বলে। শনিবার সকালে অনেক বেলা পর্যন্ত দেবদীপ ঘুম থেকে না ওঠায় সন্দেহ হয় পরিবারের। পরে দেখা যায় তিনি মারা গিয়েছেন। আসানসোল উত্তর বিধানসভার কংগ্রেস প্রার্থী প্রসেনজিৎ পুইতুন্ডির দাবি, ‘তৃণমূল কাউন্সিলারের মদতপুষ্ট গুন্ডারাই এই হামলা চালিয়েছে।’
বিক্ষোভে উত্তাল আসানসোল: শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ দেবদীপের দেহ নিয়ে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ ফাঁড়িতে পৌঁছে বিক্ষোভ শুরু করেন কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে হবে। দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভের পর পদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বিকেল চারটের পর দেহটি আসানসোল জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। আজ, রবিবার ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা।
তদন্ত ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি (সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে দু’জনের নাম এফআইআর-এ রয়েছে। তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন অবশ্য কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পাল্টা রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছেন। স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলার অনিমেষ দাসও দাবি করেছেন, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের দলের কোনও যোগ নেই। তবুও ভোটের মুখে শহরের বুকে এমন ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।