আশঙ্কাই সত্যি হল। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও দোলের দিন বিশ্বভারতীতে ঐতিহ্যবাহী সেই উন্মুক্ত বসন্ত উৎসব হচ্ছে না। বুধবার কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের কনফারেন্স হলে এক সাংবাদিক বৈঠকে বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এবারও ঘরোয়া পরিবেশে কেবল ‘বসন্ত বন্দনা’র আয়োজন করা হবে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া, অধ্যাপক এবং কর্মীরা ছাড়া বহিরাগত বা সাধারণ পর্যটকদের প্রবেশের অনুমতি থাকবে না।
উপাচার্যের মতে, পর্যটকদের মানসিকতার আমূল পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত সকলকে নিয়ে উৎসব করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “আমরা বিশ্ব ঐতিহ্যের (UNESCO World Heritage) মর্যাদা কোনওভাবেই নষ্ট হতে দিতে পারি না।” উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে শেষবার যখন সর্বসাধারণের জন্য উৎসবের দরজা খোলা ছিল, তখন ভিড়ের চাপে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই শান্তিনিকেতনের নিজস্ব ঘরানাকে বাঁচাতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত। তবে ‘বসন্ত বন্দনা’ ঠিক কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
এদিনের বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের একাধিক রূপরেখাও তুলে ধরেন উপাচার্য। তিনি জানান, বিশ্বভারতী প্রথমবারের মতো ‘কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিং’-এ অংশ নিতে আবেদন করেছে। পাশাপাশি, এনআইআরএফ (NIRF) র্যাংকিংয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের মান বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। আগামী এপ্রিল মাস থেকে প্রশাসনিক কাজে পুরোপুরি ‘কাগজহীন অফিস’ বা পেপারলেস ব্যবস্থা চালু হবে এবং এশিয়াটিক সোসাইটির সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত প্রাচীন নথি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণের কাজও শুরু হয়েছে। এছাড়া, প্রাক্তনীদের পুনর্মিলন উৎসব ও উত্তরায়ণ প্রাঙ্গণে লাইট-অ্যান্ড-সাউন্ডের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথের জীবনকাহিনী তুলে ধরার মতো একাধিক পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।