নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে ‘রোহিঙ্গা’ সরানোর জিগির তুলে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার পক্ষে সওয়াল করেছিল বিজেপি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের প্রথম পর্বের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হতেই দেখা যাচ্ছে হিতে বিপরীত ফল। তালিকায় ‘রোহিঙ্গা’ খোঁজার বদলে দেখা যাচ্ছে খোদ গেরুয়া শিবিরেরই একাধিক নেতার নাম বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদায়। হেলেঞ্চার বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যা কবিতা বাইনের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে। ক্ষুব্ধ কবিতাদেবীর দাবি, “২০০২ সালের তালিকায় বাবা-মায়ের নাম থাকা সত্ত্বেও চক্রান্ত করে আমার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।” যদিও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব একে বিজেপির পাতা ‘মরণফাঁদ’ বলে কটাক্ষ করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বাগদার হেলেঞ্চা ত্রিকোণ পার্কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ।
বিজেপির অস্বস্তি বাড়িয়ে তালিকায় নাম নেই অশোকনগরের ২ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি প্রদ্যুৎ টিকাদারেরও। বাদ গিয়েছেন বিড়া-রাজীবপুর পঞ্চায়েতের সিপিএম সদস্য প্রহ্লাদ কুণ্ডু। বৈধ ভোটারদের এভাবে নাম বাদ দেওয়া এবং নাগরিক হয়রানির অভিযোগে সোমবার রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সন্দেশখালি। সন্দেশখালি ২ এরিয়া কমিটির ডাকে সিপিএমের একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল এদিন বিডিও অফিস, থানা ও বিএলআরও অফিস এলাকা পরিক্রমা করে। মিছিলে উপস্থিত নেতা বিলাস বর্মন স্পষ্ট জানান, বৈধ ভোটারদের হেনস্তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া এখন শাসক-বিরোধী তরজায় রাজ্যের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।