নিউজ ডেস্ক: ভরসন্ধ্যায় নজিরবিহীন উত্তেজনার সাক্ষী থাকল কলকাতার নির্বাচন কমিশনের দপ্তর। রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে লক্ষ্য করে জুতো ছোড়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, তৃণমূল ও বিজেপিপন্থী বিএলও-দের (BLO) মধ্যে দফায় দফায় ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। অভিযোগ, তিনি যখন কমিশনের দপ্তরে প্রবেশ করছিলেন, তখনই তাঁকে লক্ষ্য করে জুতো ছোড়া হয় এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সেখানে উপস্থিত বিজেপিপন্থী কর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁদের দাবি, পুলিশের সামনেই এই ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।
জুতো ছোড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএলও-দের দুটি পক্ষ একে অপরের ওপর চড়াও হয়। আঙুল উঁচিয়ে বচসা থেকে শুরু করে হাতাহাতির উপক্রম হয়। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। দফায় দফায় বিক্ষোভের জেরে কমিশনের দপ্তরের সামনের রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজ্যে গুরুতর অনিয়ম চলছে। তাঁর দাবি, দুই জেলার জেলাশাসক এবং নদিয়ার এডিএম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া অনুপ্রবেশকারীদের নাম পুনরায় তুলতে কর্মীদের ওপর অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছেন। শুভেন্দু বলেন, “অনুপ্রবেশকারীদের নাম তোলার জন্য প্রভাব খাটানো হচ্ছে। এর সপক্ষে একটি অডিও ক্লিপ আমরা সিইও-র কাছে জমা দিয়েছি।” নির্বাচন কমিশনের দোরগোড়ায় বিরোধী দলনেতার এই হেনস্তার ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তরজা তুঙ্গে উঠেছে।
WordPress Slug: