নিউজ ডেস্ক: ছুটির সকালে হাড়হিম করা ঘটনার সাক্ষী থাকল গড়িয়া। নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার গড়িয়া স্টেশন সংলগ্ন একটি আবাসনের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হলো গৃহবধূর নিথর দেহ। খাটে মশারি টাঙানো অবস্থায় এনাক্ষী দাস (৪২) নামে ওই মহিলার মুখে কাপড় গোঁজা মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন প্রতিবেশী ও পরিচারিকা। পাশের ঘরেই ড্রয়িংরুমের সোফায় শুয়ে ছিল দম্পতির আট বছরের অসুস্থ সন্তান। ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ গৃহবধূর স্বামী, পেশায় অধ্যাপক সৌমিক দাস। সাতসকালে এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পরিচারিকার চিৎকারে হুলুস্থুল: স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে দম্পতির ফ্ল্যাটে কাজে আসেন তাঁদের পরিচারিকা। কলিং বেল বাজিয়ে দীর্ঘক্ষণ সাড়া না মেলায় এবং দরজায় ধাক্কা দিতেই সেটি খুলে যাওয়ায় তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন। ভেতরে ঢুকে তিনি দেখেন, ওই দম্পতির নাবালক ছেলে সোফায় নিস্তেজ হয়ে পড়ে রয়েছে। আর শোওয়ার ঘরে বিছানায় পড়ে রয়েছেন এনাক্ষীদেবী। পরিচারিকার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। দেখা যায়, এনাক্ষীদেবীর মুখে কাপড় গোঁজা রয়েছে। মাকে ওই অবস্থায় দেখে বছর আটের শিশুটি কার্যত বাকরুদ্ধ ও ট্রমাটাইজড হয়ে গিয়েছে।
অধ্যাপক স্বামী পলাতক: মৃতার স্বামী সৌমিক দাস একটি বেসরকারি কলেজের অধ্যাপক হিসেবে পরিচিত। প্রতিবেশীদের দাবি, ওই দম্পতি অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির ছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে কখনও অশান্তি হতে দেখেননি কেউ। আবাসনের অন্যান্য আবাসিকদের সঙ্গেও খুব একটা মেলামেশা করতেন না তাঁরা। তবে শনিবার রাত থেকেই সৌমিকবাবু এবং এনাক্ষীদেবীর মোবাইল ফোন বেজে গেলেও কেউ ধরছিলেন না। রবিবারের ঘটনার পর থেকেই অধ্যাপক বেপাত্তা থাকায় পুলিশের সন্দেহের তির তাঁর দিকেই।
তদন্তে নরেন্দ্রপুর থানা: খবর পেয়ে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে সোনারপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা এনাক্ষীদেবীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে মহিলাকে। তবে খুনের মোটিভ বা কারণ নিয়ে এখনও ধন্দ কাটেনি। অধ্যাপকের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ। মৃতার বাপের বাড়ির সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের সুখী দাম্পত্যের আড়ালে ঠিক কী এমন ঘটেছিল যে অধ্যাপকের ঘর এভাবে তছনছ হয়ে গেল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।