নিউজ ডেস্ক: সামনেই ধাউ দাউ করে জ্বলছে বিদ্যুতের খুঁটি। দমকলের জন্য অপেক্ষা করলে বাড়তে পারত আগুনের লেলিহান শিখা, ছড়াতে পারত আতঙ্ক। কিন্তু কর্তব্য যে তাঁকে স্থির থাকতে দেয়নি। নিজের প্রাণের তোয়াক্কা না করে খিদিরপুরের রাস্তায় একাই আগুন নেভাতে নেমে পড়লেন বিদ্যাসাগর সেতু ট্রাফিক গার্ডের ওসি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর এই অদম্য সাহস আর উপস্থিত বুদ্ধিকে কুর্নিশ জানালেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি খিদিরপুরের একটি স্কুলের উল্টো দিকে আচমকা দাউ দাউ করে আগুন ধরে যায় একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে। নীচেই সারিবদ্ধ দোকান। যে কোনও সময় বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা ছিল। ঘটনাস্থলে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা প্রসেনজিৎবাবু কালক্ষেপ না করে নিজের গাড়িটিকে খুঁটির সামনে নিয়ে যান। এরপর গাড়ির ছাদে উঠে একটি অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের সাহায্যে শুরু করেন জল ছেটানো। তাঁর একক প্রচেষ্টাতেই কয়েক মুহূর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে আসে পরিস্থিতি।
সাহসী এই পুলিশ অফিসারের ভিডিও বৃহস্পতিবার পোস্ট করে কলকাতা পুলিশ। সেটি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে শেয়ার করে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘আমাদের সাহসী ইনস্পেক্টর প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে শুভেচ্ছা জানাই। বড় দুর্ঘটনা এড়াতে তিনি অসাধারণ কাজ করেছেন। তাঁর মতো নায়ক প্রত্যেক সমাজে দরকার।’
উল্লেখ্য, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে এমন ‘হিরোগিরি’ নতুন নয়। ২০২২ সালে শ্যামবাজারের এক অগ্নিকাণ্ডে রান্নাঘরে আটকে পড়া বৃদ্ধাকে কাঁধে করে উদ্ধার করেছিলেন তিনি। ২০০৭ সালে তারাতলার এলআইসি বিল্ডিংয়ের আগুন নেভানো হোক বা অতিমারি কালে দুঃস্থ শিশুদের পড়ানোর ব্যবস্থা— বারবার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন তিনি। খিদিরপুরের ঘটনাটি ফের প্রমাণ করল, উর্দিধারীদের মানবিকতা আর কর্তব্যবোধ এখনও অটুট।