সামনেই মহাশিবরাত্রি। ডুয়ার্সের লাটাগুড়ি জঙ্গলের অন্দরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মহাকালধামকে ঘিরে এখন সাজ সাজ রব। জঙ্গল ঘেরা এই প্রাচীন শিবতীর্থে পুণ্যার্থীদের ভিড় সামলাতে এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নামছে বন দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন। ধাম চত্বর পরিষ্কার থেকে শুরু করে বন্যপ্রাণীর হামলা রুখতে নজরদারি— সব মিলিয়ে এক নিশ্ছিদ্র বলয় তৈরির প্রস্তুতি চলছে গরুমারা জঙ্গল সংলগ্ন এই এলাকায়।
প্রতি বছরই শিবচতুর্দশী উপলক্ষে গরুমারার বিভিন্ন বনবস্তি এলাকা থেকে কয়েক হাজার পুণ্যার্থী ভিড় জমান মহাকালধামে। গভীর জঙ্গলের শান্ত পরিবেশে শিবলিঙ্গে জল ঢেলে পূজার্চনা করেন তাঁরা। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শিবরাত্রি উপলক্ষে এবারও সেই ভিড় কয়েক গুণ বাড়বে বলেই অনুমান করা হচ্ছে। বর্তমানে ধামের দেখভালের দায়িত্বে থাকা অজিত তেলি তামারিয়া ও বন্ধাইন মুন্ডা জোরকদমে সাফাই অভিযানে নেমেছেন। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধামের দায়িত্বে থাকা বামনি বনবস্তির ফুলমণি তেলি তামারিয়ার অকাল মৃত্যুর পর এখন তাঁর ছেলে অজিতই এই ঐতিহ্যের ধারা বজায় রেখেছেন।
গভীর জঙ্গলে পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বন দপ্তরের কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ। মঙ্গলবার এলাকা পরিদর্শন করে লাটাগুড়ির রেঞ্জ অফিসার সঞ্জয় দত্ত জানিয়েছেন, শিবরাত্রির দিন বন্যপ্রাণীর করিডোরগুলিতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। কোনও ভক্ত যাতে দলছুট হয়ে জঙ্গলের গভীরে প্রবেশ না করেন, তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত বনকর্মী মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি মেটেলি থানার পুলিশও এই নজরদারিতে সামিল হবে। ধামের সেবাইত অজিত বলেন, “বন দপ্তর ও প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা আশাবাদী যে প্রতি বছরের মতো এবারও শান্তিতে মহাদেবের পুজো সম্পন্ন হবে।”