নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকটের আঁচ এবার সরাসরি এসে লাগল খুদে পড়ুয়াদের পাতে। এলপিজি সিলিন্ডারের জোগানে টান পড়ায় হাওড়া জেলার একাধিক প্রাথমিক স্কুলে মিড ডে মিলের রান্না বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কোথাও ইতিমধ্যেই উনুন জ্বলা বন্ধ হয়ে গিয়েছে, আবার কোথাও মজুত থাকা শেষ সিলিন্ডারটি ফুরিয়ে যাওয়ার ভয়ে কাঁটা হয়ে আছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। সব মিলিয়ে জেলার ২ হাজার ৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড ডে মিল পরিষেবা এখন ঘোরতর অনিশ্চয়তার মুখে।
উধাও মিড ডে মিলের অন্ন: বৃহস্পতিবার শিবপুর হিন্দু গার্লস প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেল এক করুণ চিত্র। প্রাক-প্রাথমিক থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৫৬০ জন ছাত্রী থাকলেও, গ্যাস সিলিন্ডার না মেলায় এদিন রান্না করা খাবার দেওয়া সম্ভব হয়নি। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মালা মুখোপাধ্যায় জানান, “স্বনির্ভর গোষ্ঠী রান্নার দায়িত্বে থাকলেও গ্যাস ছাড়া তারা অসহায়। অগত্যা রান্না করা খাবারের বদলে ফল ও শুকনো খাবার দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।” একই সংকটের কথা শুনিয়েছেন ডোমজুড়ের মহিষনালা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জীব মান্নাও। তাঁর স্কুলে ১৮০ জন পড়ুয়ার জন্য মাত্র একটি সিলিন্ডার পড়ে আছে, যা ফুরিয়ে গেলে রান্না পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।
হাহাকার জেলায় জেলায়: কেবল শিবপুর বা ডোমজুড় নয়, হাওড়া শহরের তারাসুন্দরী প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়, বিপন্নপাড়া বারোয়ারিতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়-সহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদকে লিখিতভাবে নিজেদের সমস্যার কথা জানিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি স্কুলে মাসে গড়ে ৪টি করে সিলিন্ডারের প্রয়োজন হয়। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে নতুন সিলিন্ডারের আবেদন জানালেও ডিলারদের কাছ থেকে কোনও সদুত্তর মিলছে না বলে অভিযোগ।
প্রশাসনের উদ্বেগ: হাওড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান কৃষ্ণ ঘোষ এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “স্কুলগুলিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যদি পর্যাপ্ত সিলিন্ডার সরবরাহ না করা হয়, তবে মিড ডে মিল পরিষেবা সচল রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।” একদিকে জ্বালানি সংকট আর অন্যদিকে খুদেদের খাবারের অভাব— দুইয়ের জাঁতাকলে পড়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন কয়েক হাজার অভিভাবক। এখন প্রশাসনের ‘এসওপি’ (SOP) বা বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা কতটা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করতে পারে, সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।