নিউজ ডেস্ক: রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকটে জলপাইগুড়ি জেলাজুড়ে চরম দুর্ভোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে বৃহস্পতিবার তড়িঘড়ি গ্যাস ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর এবং বটলিং প্ল্যান্টের কর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসল জেলা পুলিশ ও প্রশাসন। গত দু’দিন ধরে জেলায় গ্যাসের গাড়ি না ঢোকায় ভাঁড়ার কার্যত শূন্য বলে দাবি করেছেন ডিলাররা। এই সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু কারবারি কালোবাজারি শুরু করেছে বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।
ডিলারদের ভাঁড়ার শূন্য, থমকে সরবরাহ: প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ডিলারের কাছে কত সিলিন্ডার মজুত রয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছিল। জবাবে ডিলাররা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে এই মুহূর্তে কোনও ‘স্টক’ নেই। বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের জোগানও পুরোপুরি বন্ধ। বটলিং প্ল্যান্ট থেকে গাড়ি না আসায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এর ফলে ঘরোয়া গ্রাহক থেকে শুরু করে হোটেল ব্যবসায়ীরাও চরম বিপাকে পড়েছেন।
সার্ভার বিভ্রাট ও কালোবাজারির অভিযোগ: গ্যাসের এই সংকটের মাঝেই গোদের উপর বিষফোড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রযুক্তিগত সমস্যা। গ্রাহকদের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে সার্ভারের সমস্যার কারণে গ্যাস বুক করা যাচ্ছে না। বুকিং না থাকায় ডিলাররা সিলিন্ডার দিতে অস্বীকার করছেন। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোথাও কোথাও চড়া দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠছে। অনেক গ্রাহকই আশঙ্কা করছেন, কৃত্রিম অভাব তৈরি করে গ্যাসের কালোবাজারি চালানো হচ্ছে।
পুলিশের কড়া হুঁশিয়ারি: পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৌভনিক মুখোপাধ্যায় বলেন, “পুলিশ প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। গ্যাসের কালোবাজারির কোনও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পাশাপাশি, ডিলারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তাঁরা প্রশাসনের সঙ্গে প্রতি মুহূর্তে যোগাযোগ রেখে চলেন। গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন পয়েন্টগুলিতে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে, তার জন্য সাদা পোশাকে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।