নিউজ ডেস্ক: অযোধ্যা পাহাড়ের কোল ঘেঁষে পুরুলিয়ার ঝালদা ২ নম্বর ব্লকের কলমা গ্রাম পঞ্চায়েতের গুরিডি গ্রাম। এই গ্রামের পাথরের চাটানের আড়ালে লুকিয়ে আছে প্রকৃতির এক অদ্ভুত বিস্ময়— একটি দু’ফুট চওড়া জলের কুন্ড। লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা এই কুন্ডের বিশেষত্ব হল, এখানে সারা বছর জল থাকে। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এর জলের তাপমাত্রার বিপরীতমুখী পরিবর্তন। প্রখর গ্রীষ্মে যখন চারপাশ ফুটছে, তখন এই কুন্ডের জল থাকে শীতল। আবার হাড়কাঁপানো শীতে এই জলই হয়ে ওঠে উষ্ণ। প্রকৃতির এই খেয়ালে মুগ্ধ ও কৌতূহলী গ্রামবাসীরা।
পশু চরাতে বা চাষের কাজে আসা বহু গ্রামবাসী এই কুন্ডের স্বচ্ছ জল পান করেন। ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে, এই অঞ্চলটি ‘নর্থ পুরুলিয়া শিয়ার জোন’-এর অন্তর্গত। ভূ-বিজ্ঞানী বিশ্বজিৎ বেরা জানিয়েছেন, এটি আসলে একটি ‘জিওথার্মাল ন্যাচারাল হট স্প্রিং’ বা প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণ। মাটির গভীর ফাটল দিয়ে জল চুঁইয়ে নিচে নামলে ভূগর্ভের তাপে তা গরম হয়ে বুদবুদ আকারে আবার উপরে উঠে আসে। গ্রীষ্মে মাটির নিচের তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকায় জল ঠান্ডা লাগে, আর শীতে ভূগর্ভের তাপ বেশি অনুভূত হওয়ায় জল গরম মনে হয়।
স্থানীয়দের দাবি, এই জলের মধ্যে সালফার ও নানাবিধ খনিজ উপাদান রয়েছে, যা চর্মরোগ সারাতে সাহায্য করতে পারে। অযোধ্যার সীতাকুণ্ডের নাম অনেকেই জানলেও, ঝালদার গভীর জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা এই রহস্যময় কুন্ডের কথা আজও অনেকের অজানা। গ্রামবাসীরা চাইছেন, প্রশাসন উদ্যোগী হয়ে এই কুন্ডটি সংরক্ষণ করুক। তাহলে এই অচেনা গ্রামটি একটি অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে, যা স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও এলাকার উন্নয়নে সাহায্য করবে।