নিউজ ডেস্ক: মালদহের চাঁচল সদরের যানজট সমস্যা এখন নিত্যনৈমিত্তিক অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের ধারে অপরিকল্পিত বাস টার্মিনাস এবং ফুটপাত জুড়ে গজিয়ে ওঠা দোকানের জেরে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের। এই অব্যবস্থার প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে বাস টার্মিনাস স্থানান্তরের দাবিতে সোমবার সরব হলেন বাস ইউনিয়নের সদস্য ও চালকেরা। প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রিতার বিরুদ্ধে এদিন চাঁচল রাজবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।
চাঁচল-আশুতোষ মোড় সংলগ্ন ব্যস্ততম সড়কের ধারেই অবস্থিত কাজি নজরুল ইসলাম বাস টার্মিনাস। প্রতিদিন এই টার্মিনাস থেকে মালদহ, গাজোল, রতুয়া ও রায়গঞ্জ রুটের ১২৮টি বেসরকারি বাস এবং শতাধিক ছোট গাড়ি চলাচল করে। কিন্তু টার্মিনাসে বাস ঘোরানোর পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় মূল সড়কেই গাড়ি ঘোরাতে বাধ্য হন চালকেরা। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে দুই প্রান্তে আটকে পড়ে শয়ে শয়ে যানবাহন, এমনকি জরুরি অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সও বের হতে পারে না। চালকদের অভিযোগ, জায়গার অভাবে যাত্রী ওঠানামা করানোর সময় পথচারীদের কটু কথা শুনতে হয় তাঁদের।
স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রায় চার বছর আগে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে এই টার্মিনাস সরানোর বিষয়টি উঠেছিল। মালদহ জেলা পরিষদের তৎকালীন সদস্য মহম্মদ সামিউল ইসলামের তদ্বিরে প্রশাসন রানিকামাত এলাকায় পূর্ত দপ্তরের জায়গায় নতুন টার্মিনাস গড়ার পরিকল্পনাও নেয়। কিন্তু ফাইলবন্দি সেই পরিকল্পনা আজও বাস্তবের মুখ দেখেনি। মালদহ বাস ও মিনিবাস অ্যাসোসিয়েশনের চাঁচলের চেন মাস্টার প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “প্রশাসন শুধু আশ্বাস দেয়, কাজের কাজ কিছুই হয় না। দ্রুত টার্মিনাস না সরানো হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।”
চাঁচল মহকুমা শাসক ঋত্বিক হাজরা অবশ্য জানিয়েছেন, নতুন বাস টার্মিনাসের জমিটি পূর্ত দপ্তরের থেকে পরিবহণ দপ্তরের হাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। আইনি জটিলতা কাটিয়ে ভোটের পরেই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সুর শোনা গিয়েছে জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি রফিকুল হোসেনের গলায়। তবে প্রশাসনের এই ‘ভোট পরবর্তী’ আশ্বাসে কতটা চিঁড়ে ভিজবে, তা নিয়ে সন্দিহান চাঁচলের ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।