নিউজ ডেস্ক: মাঝ আকাশে প্রতিকূল আবহাওয়া, আর তার জেরেই ঝাড়খণ্ডের চাতরা জেলায় ঘটে গেল এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা। সোমবার সন্ধ্যায় রাঁচি থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে সিমারিয়া ব্লকের কাসারিয়া পঞ্চায়েত এলাকার ঘন জঙ্গলে ভেঙে পড়ে ‘রেডবার্ড এয়ারওয়েজ প্রাইভেট লিমিটেড’-এর একটি বিচক্র্যাফ্ট সি-৯০ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। মঙ্গলবার সকালে চাতরার দুর্গম জঙ্গল থেকে বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের পর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, পাইলটসহ বিমানে থাকা সাত আরোহীর কারোরই প্রাণরক্ষা হয়নি।
দুর্ঘটনাগ্রস্ত ওই বিমানে ছিলেন মুমূর্ষু রোগী সঞ্জয় কুমার (৪১), চিকিৎসক বিকাশ কুমার গুপ্ত এবং প্যারামেডিক শচীন কুমার মিশ্র। এ ছাড়াও রোগীর সঙ্গী অর্চনা দেবী ও ধীরু কুমার এবং দুই পাইলট বিবেক বিকাশ ভগত ও সরাজদীপ সিং এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে রাঁচি বিমানবন্দর থেকে ওড়ার কিছুক্ষণ পরেই কলকাতা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (ATC) সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন পাইলট। আবহাওয়া খারাপ থাকায় রুট পরিবর্তনের অনুমতিও চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু রাত ৭টা ৩৪ মিনিট নাগাদ রাডারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিমানটির।
ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA) জানিয়েছে, প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)। ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী ইরফান আনসারি এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। দিল্লির পথে রওনা হওয়া একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের এমন সলিল সমাধির ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে ঝাড়খণ্ড ও বিহারের প্রশাসনিক মহলে।