নিউজ ডেস্ক: নামের আগে ‘ডাক্তার’ শব্দটা বসার অপেক্ষা ছিল মাত্র কয়েক দিনের। সামনেই ছিল উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। কিন্তু সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল এক নিমেষেই। কল্যাণীর জহরলাল নেহেরু মেমোরিয়াল (জেএনএম) হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেল থেকে উদ্ধার হলো এক ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রের নিথর দেহ। বৃহস্পতিবার হোস্টেলের বন্ধ ঘর থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিকেলের পর থেকে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে হাসপাতাল চত্বরে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রের নাম পুলক হালদার। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ধামুয়ার বাসিন্দা ছিলেন। কল্যাণী মেডিক্যাল কলেজের ফাইনাল ইয়ারের এই ছাত্র হোস্টেলের একটি ঘরে একাই থাকতেন। সহপাঠীদের দাবি, গত ২০ ফেব্রুয়ারি কলেজের ক্যান্টিনে শেষবার দেখা গিয়েছিল পুলককে। তারপর থেকে তাঁর আর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এমনকি কারও সঙ্গে কোনো যোগাযোগও ছিল না তাঁর।
বৃহস্পতিবার সকালে পুলকের ঘর থেকে বিকট দুর্গন্ধ আসতে শুরু করলে সহপাঠীরা হোস্টেল সুপার ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। খবর দেওয়া হয় কল্যাণী থানায়। পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে পুলকের পচনধরা দেহ পড়ে থাকতে দেখে। দেহটি উদ্ধার করে দ্রুত ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এক মেধাবী ডাক্তারি পড়ুয়ার এমন রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর ধোঁয়াশা। এটি আত্মহত্যা নাকি এর পিছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে কল্যাণী থানার পুলিশ। সহপাঠী ও হোস্টেল কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে মনে করছে তদন্তকারীরা। এই অকাল প্রয়াণে গোটা মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।