নিউজ ডেস্ক: জমি দখল এবং রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় কালো টাকা বিনিয়োগের অভিযোগে এবার ইডি-র (Enforcement Directorate) বড়সড় পদক্ষেপ। সোমবার সাতসকালে আনন্দপুর ও নিউ আলিপুরে দুই প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় দশ লক্ষ টাকা নগদ এবং বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না উদ্ধার করলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী আধিকারিকরা। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর নথিপত্রও। তদন্তকারীদের দাবি, এই দুই ব্যবসায়ীর সঙ্গে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র রয়েছে।
যুগ্ম অভিযান ও নথির পাহাড়: ইডি সূত্রে খবর, বেআইনিভাবে জমি দখল এবং সেই টাকা বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে বিনিয়োগ করার দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল ওই দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এদিন সকালে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের নিয়ে আনন্দপুর ও নিউ আলিপুরের ওই দুই ব্যবসায়ীর আবাসে হানা দেন ইডি আধিকারিকরা। দিনভর তল্লাশিতে দশ লক্ষ টাকার বেশি নগদ এবং কয়েক লক্ষ টাকার সোনার গয়নার হদিশ মেলে। শুধু তাই নয়, দম্পতির বিভিন্ন ব্যাঙ্কের নথিপত্র এবং রিয়েল এস্টেট সংক্রান্ত লেনদেনের অসংখ্য ফাইলও উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা।
প্রভাবশালীদের সঙ্গে লেনদেনের ইঙ্গিত: কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, তল্লাশিতে এমন কিছু তথ্য ও ডিজিটাল প্রমাণ মিলেছে যা থেকে স্পষ্ট যে, বিভিন্ন ‘প্রভাবশালী’ মহলের সঙ্গে এই দুই ব্যবসায়ীর নিয়মিত লেনদেনের সম্পর্ক ছিল। অভিযোগ, নিজেদের উপার্জিত কালো টাকা বিভিন্ন বেনামি রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে সেটিকে ‘সাদা’ করার কারবার ফেঁদেছিলেন তাঁরা। এই বিনিয়োগের জাল কতটা গভীরে বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
উদ্বেগে রিয়েল এস্টেট মহল: ভোটের আবহে খাস কলকাতার দুই নামী ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডি-র এই হানা রিয়েল এস্টেট মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। ধৃত নথিগুলির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে ইডি। তদন্তকারীদের অনুমান, এই ঘটনার শিকড় শহরের আরও একাধিক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর দিকে যেতে পারে। আপাতত বাজেয়াপ্ত করা নগদ ও গয়নার প্রকৃত উৎস কী, তার সপক্ষে ওই দুই ব্যবসায়ী কোনও বৈধ নথি দেখাতে পেরেছেন কি না, সেটাই এখন ইডি-র তদন্তের মূল বিষয়।