জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের অন্দরে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ আদিবাসী লোকনৃত্য বা ‘ট্রাইবাল ফোক ডান্স’। কিন্তু বন দপ্তরের অদ্ভুত নিয়মের ফেরে সেই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পর্যটকদের একাংশ। অভিযোগ, মাদারিহাট গেট দিয়ে প্রবেশ করা পর্যটকরা লোকনৃত্য দেখার সুযোগ পেলেও, শালকুমার গেট দিয়ে আসা পর্যটকদের কপালে জুটছে কেবল সময়ের কড়াকড়ি। বন দপ্তরের এই দ্বিমুখী আচরণে ক্ষোভ ছড়িয়েছে পর্যটন ব্যবসায়ী ও গাইডদের মধ্যে।
জলদাপাড়া ট্যুরিস্ট গাইড ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কল্যাণ গোপের দাবি, সাফারির টিকিটে স্পষ্ট লেখা থাকে বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে ৫টার মধ্যে জঙ্গল ভ্রমণ শেষ করতে হবে। শালকুমার গেটের ক্ষেত্রে বন দপ্তর এই নিয়ম কঠোরভাবে পালন করলেও মাদারিহাট গেটের ক্ষেত্রে তা কার্যত শিথিল। মাদারিহাট দিয়ে ঢোকা গাড়িগুলি অনেক সময় বিকেল ৬টা বা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত জঙ্গলে থাকছে। অথচ শালকুমার গেট দিয়ে ঢোকা পর্যটকদের ঠিক বিকেল ৫টায় জঙ্গল থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাচক্রে, ট্রাইবাল ফোক ডান্স শুরুই হয় বিকেল ৫টায়। ফলে শালকুমার গেটের পর্যটকরা যখন বেরোচ্ছেন, তখনই অনুষ্ঠান শুরু হচ্ছে।
সময়ের এই বৈষম্য দূর করতে আধ ঘণ্টা সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ট্রাইবাল ফোক ডান্সের কর্ণধার শম্ভু সুবা। বিষয়টি নিয়ে আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ দীপনারায়ণ সিনহা জলদাপাড়ার বনাধিকারিকদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, বক্সার মতো জলদাপাড়ায় নিয়মিত সমন্বয় বৈঠক হয় না বলেই এই সমস্যা। এ বিষয়ে তিনি উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বন দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।