নিউজ ডেস্ক: ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ ১৬ এপ্রিল। মহানগরীর উপকণ্ঠে যে পরিকল্পিত উপনগরী আজ আধুনিকতার সমার্থক, সেই সল্টলেক বা বিধাননগরের আজ জন্মদিন। বর্তমানে বিধানসভা ভোটের ডামাডোলে চারপাশ সরগরম থাকলেও, এই বিশেষ দিনটি সল্টলেকবাসীর হৃদয়ে এক আলাদা জায়গা করে নেয়। ১৯৬২ সালের আজকের দিনেই কার্যত ভূমিষ্ঠ হয়েছিল আজকের এই তিলোত্তমা।
লবণহ্রদের এই রূপান্তরের কারিগর ছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়। ১৯৬২ সালের ১৬ এপ্রিল তিনি হুগলি নদী থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পলিমাটি এনে জলাভূমি ভরাটের কাজের সূচনা করেছিলেন। এই বিশাল কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তদানীন্তন যুগোশ্লাভিয়ার একটি সংস্থাকে। জলা বুজিয়ে শহর গড়ার অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ ওই সংস্থাটির হাত ধরেই পলিমাটি জমতে শুরু করে লোনা জলের ভেড়িতে। ধীরে ধীরে জলছবি বদলে গিয়ে জেগে ওঠে এক নতুন ভূখণ্ড। সল্টলেকের ইতিহাসের প্রথম আবাসিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবি ব্লকের চক্রবর্তী পরিবারকে, যাঁরা ১৯৭০ সালের ৯ মার্চ এখানে থাকতে শুরু করেছিলেন। সেই শুরু, আর আজ ৫৫ বছর পর এই উপনগরীর জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ১৩ লক্ষে।
তবে সল্টলেকের ইতিহাসের শেকড় আরও গভীরে। ইতিহাসবেত্তাদের মতে, ১৭৫৬ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধের সময় এই লবণহ্রদ এলাকায় সেনা শিবির স্থাপন করেছিলেন। সৈন্যদের সুবিধার জন্য তিনিই প্রথম কিছু কিছু জলা জায়গা বুজিয়ে চলাচলের রাস্তা তৈরি করেন। পরবর্তীকালে ব্রিটিশ শাসনে এই এলাকা মৎস্যজীবীদের হাতে যায় এবং এখানে মাছ চাষ শুরু হয়। দেশভাগের পর শরণার্থীদের পুনর্বাসনের জন্য কলকাতায় যখন জায়গার সংকট চরমে পৌঁছয়, তখনই ডাঃ রায় এই উপনগরী তৈরির পরিকল্পনা নেন। ১৯৫৫ সালে প্রায় ৩৬ হাজার বর্গ কিলোমিটার ভেড়ি এলাকা অধিগ্রহণ করে শুরু হয় আজকের পরিকল্পিত বিধাননগর গড়ার কাজ।
নির্বাচনী আবহেও আজ বিধাননগরের পুরনো বাসিন্দারা ফিরে দেখছেন সেই ধুলোমাখা ইতিহাসের পাতা। জলাভূমি থেকে আজকের আধুনিক উপনগরী হয়ে ওঠার এই সফর যেন এক রূপকথার সমান্তরাল।