নিউজ ডেস্ক: ভোট মিটলেও খাস কলকাতায় হিংসার দাপট থামছে না। এবার এন্টালিতে নৃশংস খুনের ঘটনা প্রকাশ্যে এল। বুধবার ভোরে এন্টালি থানা এলাকার রাধানাথ চৌধুরী রোডের একটি নির্মীয়মাণ আবাসনের সামনে থেকে তাপস নস্কর নামে এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত, বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত যুবক পেশায় প্রোমোটার এবং এলাকায় সক্রিয় তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ ও নৃশংসতা: পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তাপস নস্কর কোহিনূর অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দা ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে একটি ফোন পেয়ে তিনি বাড়ি থেকে বেরোন, তারপর থেকেই তাঁর মোবাইল বন্ধ হয়ে যায়। বুধবার ভোরে তাঁর বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার হয়, যার হাত ও পা বাঁধা ছিল।
-
আঘাতের ধরণ: শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক কোপের চিহ্ন রয়েছে এবং পায়ে বুলেটের আঘাত পাওয়া গিয়েছে।
-
প্রাথমিক অনুমান: পুলিশের ধারণা, প্রথমে পা লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে তাঁকে ঘায়েল করা হয়, এরপর হাত-পা বেঁধে চপার জাতীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে।
তদন্ত ও গ্রেপ্তার: লালবাজার সূত্রে খবর, এই ঘটনায় ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে এবং একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে বাকি অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
রাজনৈতিক নাকি ব্যক্তিগত শত্রুতা? এই খুনের কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
-
পরিবারের দাবি: মৃতের পরিবারের অভিযোগ, তৃণমূলেরই অপর এক গোষ্ঠীর লোকজন এই হামলা চালিয়েছে। বিধানসভা ভোটে দলীয় প্রার্থীর হয়ে কাজ করার পর থেকেই তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি তাঁদের।
-
পুলিশের ভাষ্য: কলকাতার পুলিশ কমিশনার এই ঘটনাকে রাজনৈতিক খুন বলতে অস্বীকার করেছেন। তাঁর মতে, দু’পক্ষের লেনদেন সংক্রান্ত গোলমালের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
-
অপরাধমূলক রেকর্ড: উল্লেখ্য, মৃত তাপস নস্করের বিরুদ্ধেও এন্টালি থানায় খুনের চেষ্টা, তোলাবাজি ও অপহরণ সহ প্রায় ১১টি মামলা ছিল।
ভোট পরবর্তী এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে খাস কলকাতায় একের পর এক খুনের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।