নিউজ ডেস্ক: গণতন্ত্রের উৎসবের দামামা বেজেছে বাংলায়। কিন্তু সেই উৎসবের ‘বাজেট’ দেখে কপালে ভাঁজ পড়েছে নবান্নের কর্তাদের। স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) বা ‘সার’-এর পরবর্তী হিসাব বলছে, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে বাংলায় খরচের প্রাথমিক অঙ্কটা ছুঁতে পারে অন্তত দু’হাজার কোটি টাকা। ২০২১-এর বিধানসভা বা ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের তুলনায় যা ২৫ শতাংশেরও বেশি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, গত অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া প্রস্তুতি পর্বের জেরেই এবার খরচের বহর আকাশ ছুঁয়েছে।
কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, বিধানসভা নির্বাচনের যাবতীয় খরচের ৭০ শতাংশ বহন করতে হয় রাজ্য সরকারকে, বাকি ৩০ শতাংশ দেয় কেন্দ্র। অর্থাৎ, খরচ ২০০০ কোটি হলে নবান্নকে গুনতে হবে ১৪০০ কোটি টাকা। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হল, ভোটার তালিকা সংশোধনের পর রাজ্যে এবার ভোটার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ। ভোটার কমলেও বুথের সংখ্যা সামান্য বেড়ে হচ্ছে ৮০,৭১৯। কমিশনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বুথে ভোটারের ঊর্ধ্বসীমা ১৫০০ থেকে কমিয়ে ১২০০ করায় বুথের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে আনুষঙ্গিক লজিস্টিকস খরচও।
এবারের নির্বাচনে খরচের একটি বড় খাত হল পর্যবেক্ষকদের ল্যাদ। নজিরবিহীনভাবে রাজ্যে এবার ৪৭৮ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের থাকা-খাওয়া এবং যাতায়াতের খরচ সামলাতে নাস্তানাবুদ হতে হচ্ছে জেলাশাসকদের। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, পর্যবেক্ষকদের ‘বায়না’ মেটাতেও খরচ হচ্ছে বিপুল টাকা। কমিশনের এক আধিকারিক টিপ্পনী কেটে জানিয়েছেন, “জুতো পালিশ থেকে হজমি গুলি, এমনকি ঘরের ধূপকাঠির বিলও জমা পড়ছে। কলকাতায় থাকা এক পর্যবেক্ষক তো নিজের চেম্বারে আস্ত একখানা ছোট ফ্রিজ কিনে দেওয়ার আবদারও করেছেন।”
নিরাপত্তার খরচও এবার রেকর্ড গড়তে চলেছে। দুই দফায় ভোটের জন্য রাজ্যে আনা হচ্ছে প্রায় আড়াই হাজার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। তাঁদের আবাসন ও যাতায়াতের লজিস্টিকসেই বেরোবে বড় অঙ্কের টাকা। এছাড়া ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের নথি স্ক্রুটিনির জন্য ৭০০ জন বিচারককে নিয়োগ করা হয়েছে, যাঁদের প্রত্যেকের সাম্মানিক ১ লক্ষ টাকা। ‘সার’ প্রক্রিয়ার জন্য মাসে ৪০০০ টাকা ভাড়ায় নেওয়া হয়েছে ৮০০০ ল্যাপটপ। সব মিলিয়ে, শীতের শেষে বাংলার রাজনৈতিক পারদ চড়লেও, খরচের খতিয়ান দেখে প্রশাসনিক অন্দরে এখন রীতিমতো ঘাম ছুটছে।