নিউজ ডেস্ক: গণতন্ত্রের উৎসবে রেকর্ড ভাঙা নজির গড়ল দক্ষিণ ২৪ পরগনা। অতীতের সমস্ত পরিসংখ্যান ম্লান করে দিয়ে ক্যানিং পূর্ব ও ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটদানের হার প্রায় ১০০ শতাংশের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ক্যানিং পূর্বে ভোট পড়েছে ৯৭.৭০ শতাংশ। ক্যানিং পূর্বের ঠিক পিছনেই রয়েছে ভাঙড়, যেখানে ৯৭ শতাংশ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর সঙ্গে পোস্টাল ব্যালট যোগ হলে এই সংখ্যা যে ‘সেঞ্চুরি’ ছুঁইছুঁই হবে, তা বলাই বাহুল্য।
শুধু এই দুটি কেন্দ্রই নয়, সমগ্র দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা জুড়েই এবার ভোটের হার কার্যত নজিরবিহীন। জেলার গড় ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৯৩.৪৮ শতাংশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যালঘু প্রধান এলাকাগুলিতে ভোট দেওয়ার প্রবণতা ছিল চোখে পড়ার মতো। মগরাহাট পূর্ব ও পশ্চিম, ক্যানিং পশ্চিম এবং বাসন্তীর মতো কেন্দ্রগুলিতেও ৯৫ থেকে ৯৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে এই জেলায় ৮২ শতাংশ এবং ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে ৭৮ শতাংশ ভোট পড়েছিল। সেই তুলনায় এবার অতিরিক্ত ১০ শতাংশেরও বেশি ভোট কার পকেটে গেল, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলি।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, শহুরে এলাকা হিসেবে পরিচিত সোনারপুর উত্তর ও দক্ষিণে গত লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি ভোট পড়েছে। যদিও জেলার অধীনে থাকা ছ’টি শহুরে আসনে ভোটের হার ৯০ শতাংশ স্পর্শ করেনি, তবে গড়ে ৮৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়াকে নজিরবিহীন বলেই মনে করা হচ্ছে। বুধবার রাতে ডায়মন্ড হারবার ও বাসন্তীর কিছু বুথে ইভিএম বিভ্রাটের কারণে ভোট প্রক্রিয়া শেষ হতে হতে রাত সাড়ে ন’টা বেজে গিয়েছিল। বিপুল এই জনাদেশ ইভিএমে বন্দি হওয়ার পর এখন কপালে চিন্তার ভাঁজ সব শিবিরেরই।