নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ২২ বছরের দাম্পত্য। ঘরে রয়েছে সাবালক পুত্র। কিন্তু কেরল থেকে কাজ সেরে ফেরার ১৫ দিনের মাথায় সেই সম্পর্কের এমন মর্মান্তিক পরিণতি হবে, তা ভাবতেও পারেননি দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাট থানার দক্ষিণ দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দারা। শুক্রবার রাতে স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল এক পরিযায়ী শ্রমিকের বিরুদ্ধে। মৃতার নাম অনুরূপা হালদার (৪২)। পুলিশ ইতিমধ্য়েই অভিযুক্ত স্বামী হরপ্রসাদ হালদারকে গ্রেফতার করেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হরপ্রসাদ দীর্ঘ দিন ভিন রাজ্যে কাজ করতেন। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, তিনি স্ত্রী ও পুত্রের সঠিক দেখাশোনা করতেন না। এই অবহেলার জেরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিত্য অশান্তি লেগেই থাকত। চরম তিক্ততা থেকে অনুরূপা দেবী তাঁর ২০ বছরের ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়িতেই থাকতে শুরু করেন। গত ১৫ দিন আগে কেরল থেকে কাজ সেরে বাড়ি ফেরেন হরপ্রসাদ। এরপর তিনি স্ত্রী ও পুত্রকে বুঝিয়ে ফের নিজের বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। প্রতিবেশীদের দাবি, কয়েক দিন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও, শুক্রবার সকাল থেকে ফের ওই দম্পতির মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। অভিযোগ, সেই ঝগড়া রাতে চরম আকার ধারণ করলে হরপ্রসাদ স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করেন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অনুরূপা দেবীর।
শুক্রবার রাতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটলেও প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পাননি। শনিবার সকালে মৃতার বাপের বাড়ি থেকে আত্মীয়রা দেখা করতে এলে খুনের বিষয়টি জানাজানি হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় ঘর থেকে উদ্ধার হয় বধূর দেহ। দম্পতির পুত্র পীযূষ হালদার জানান, তিনি একটি দোকানে কাজ করেন এবং ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন না। প্রতিবেশীর ফোনে খবর পেয়ে ফিরে এসে দেখেন মা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছেন। বাবার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে পীযূষ বলেন, ‘‘বাবাই মাকে মেরেছে। আগে অনেকবার বাবা মাকে মারধর করেছে। প্রতিবেশীরা অনেকবার মিটমাট করে দিয়েছিল। এবার আর মাকে বাঁচানো গেল না।’’
সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার বিশ্বচাঁদ ঠাকুর জানিয়েছেন, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত স্বামীকে ইতিমধ্য়েই গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দীর্ঘস্থায়ী পারিবারিক অশান্তির জেরেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের মায়া নেমে এসেছে।