নিউজ ডেস্ক: সবে হাতেখড়ি হয়েছে স্কুলে। খেলার ছলে শেখার বয়সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হলো একরত্তি শিশুকে। দুষ্টুমি করার ‘অপরাধে’ তিন বছরের এক খুদেকে অন্ধকার বাক্সে বন্দি করে রাখার অভিযোগ উঠল সল্টলেকের এডি ব্লকের একটি নামী প্রি-স্কুলের দুই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। বিধাননগর উত্তর থানা এলাকার এই হাড়হিম করা ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে শহরজুড়ে। অভিযুক্ত দুই শিক্ষিকাকে ইতিমধ্যেই বরখাস্ত করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাটি ঘটে গত ২০ ফেব্রুয়ারি। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে ওই শিশুটি। সে তার মাকে জানায়, শিক্ষিকারা তাকে একটি অন্ধকার জায়গায় আটকে রেখেছিলেন, যা শুনে আতঙ্কে শিউরে ওঠেন অভিভাবকরা। এরপরই স্কুলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখার দাবি জানান শিশুর মা। দীর্ঘ টালবাহানার পর ফুটেজ সামনে আসতেই দেখা যায় চরম অমানবিক দৃশ্য। সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে, দুই শিক্ষিকা ওই শিশুটিকে কার্যত টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে একটি প্লাস্টিকের বাক্সের মধ্যে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, শিশুটি যাতে বেরিয়ে আসতে না পারে, তাই বাক্সের দরজা একটি ভারী কাঠের টেবিল দিয়ে আটকে দেওয়া হয়। বেশ কিছুক্ষণ সেই রুদ্ধশ্বাস অন্ধকারের মধ্যেই বন্দি থাকতে হয় খুদে পড়ুয়াকে।
শিশুটির বাবা কর্মসূত্রে বিদেশে থাকলেও, মেয়ের এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শুনে তড়িঘড়ি দেশে ফিরে এসেছেন। তিনি জানান, “স্কুল সবথেকে সুরক্ষিত জায়গা হওয়ার কথা। সেখানে তিন বছরের মেয়ের সঙ্গে এমন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। ও মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে।” ইতিমধ্যেই বিধাননগর উত্তর থানায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও দুই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি জানানো হয়েছে চাইল্ড রাইটস কমিশনকেও। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট সূত্রের খবর, এই ঘটনায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পড়ুয়াদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে তারা ‘জিরো-টলারেন্স’ নীতি নেয়, তাই অভিযুক্ত দুই শিক্ষিকাকে তৎক্ষণাৎ ছাঁটাই করা হয়েছে।