নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার রাতে মুষলধারে বৃষ্টি এবং আচমকা ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গার একটি গ্রামের একাংশ। ঝড়ের তাণ্ডবে ভেঙেচুরে গিয়েছে একাধিক ঘরবাড়ি, নষ্ট হয়েছে বিঘার পর বিঘা ক্ষেতের ফসল। ভেঙে পড়া মাটির ঘরের নীচে চাপা পড়ে এক শিশুসহ মোট আটজন বাসিন্দা আহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, দেগঙ্গা ব্লকের আমুলিয়া পঞ্চায়েতের কলাপোল গ্রামের পালপাড়া এলাকায় এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে। ওই এলাকায় মূলত দিনমজুর ও দরিদ্র পরিবারগুলির বসবাস। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ হঠাৎ শুরু হয় প্রবল ঘূর্ণিঝড়। মাত্র ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল এই ঝড়, কিন্তু তার দাপটেই পালপাড়া এলাকার জনজীবন তছনছ হয়ে যায়। কারও টালির চাল উড়ে গিয়েছে, আবার কারও মাটির বাড়ির দেওয়াল ধসে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা সুরজিৎ পাল জানান, “সারাদিন ভ্যান চালিয়ে রাতে ঘরেই শুয়েছিলাম। হঠাৎ ঝড়ে টালির চাল ভেঙে পড়ে। আমরা সবাই ঘরের ভেতরে চাপা পড়ে গিয়েছিলাম। অনেক কষ্টে জানালা ভেঙে বাচ্চাদের উদ্ধার করেছি। এখন কোথায় থাকব, কী খাব— কিছুই বুঝতে পারছি না।”
আমুলিয়া পঞ্চায়েতের প্রধান মহম্মদ ইমদাদুল হক ঝন্টু জানিয়েছেন, ঝড়ে অন্তত পাঁচটি ঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। শিশুসহ তিনজন গুরুতর জখম হয়েছেন। পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসনের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সব ধরনের সরকারি সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
দেগঙ্গার বিডিও নাজমুল আরেফিন মিদ্যা বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির একটি রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। সেটি জেলা স্তরে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।” আপাতত ত্রাণ ও আশ্রয়ের জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।