আসন্ন শিবরাত্রিকে কেন্দ্র করে সেজে উঠছে আলিপুরদুয়ারের জয়ন্তী। বক্সা টাইগার রিজার্ভের বুক চিরে মহাকাল মন্দিরে পুণ্যার্থীদের ঢল সামলাতে এবার নজিরবিহীন কড়াকড়ি শুরু করেছে বন দপ্তর। জঙ্গল ও বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষায় জারি করা হয়েছে গুচ্ছ গুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা। এবার থেকে ভাণ্ডারাগুলিতে প্লাস্টিকের জলের বোতল বা প্লাস্টিকের কোনও সামগ্রী রাখা যাবে না। বিকল্প হিসেবে বড় ড্রামে জলের ব্যবস্থা করতে হবে এবং ব্যবহারের জন্য দিতে হবে কাগজের গ্লাস। এমনকি রান্নার ক্ষেত্রেও বারণ করা হয়েছে কাঠের উনুন; বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার।
আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শিবরাত্রি। তবে ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই ভিড় বাড়তে শুরু করবে বলে প্রশাসনের অনুমান। বক্সা টাইগার রিজার্ভের পূর্ব বিভাগের এডিএফও সায়ক দত্ত জানিয়েছেন, এবার শুধু পরিবেশ নয়, নজরদারি বাড়ানো হয়েছে জয়ন্তীগামী গাড়ির ছাড়পত্রের ওপরেও। আগে কেবল বন দপ্তর অনুমতি দিলেও এবার থেকে গাড়ির ছাড়পত্রে বন দপ্তরের পাশাপাশি পুলিশ আধিকারিকদের স্বাক্ষরও বাধ্যতামূলক।
বন দপ্তরের এই কড়াকড়িকে স্বাগত জানিয়েছে ভাণ্ডারা কমিটিগুলি। কিশনগঞ্জ ও জেলার ভাণ্ডারা কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, জঙ্গলের ক্ষতি হোক তা তাঁরাও চান না, তাই সমস্ত নিয়ম মেনেই এবার পুণ্যার্থীদের সেবার কাজ করা হবে। ছোট মহাকাল ভারতের সীমানায় থাকলেও বড় মহাকাল ভুটান সীমান্তের ওপারে। জয়ন্তী নদী পেরিয়ে দুর্গম পথে যাতায়াতের সময় যাতে প্লাস্টিক বর্জ্য নদীর গর্ভে বা জঙ্গলে না মেশে, তা নিশ্চিত করতেই এই পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ। বক্সা পাহাড়ের শান্ত পরিবেশ বজায় রাখতে শিবরাত্রির দিনগুলিতে বিশেষ টহলদারি চালাবে বন দপ্তর ও পুলিশ।