নিউজ ডেস্ক: শহরের জঞ্জাল সাফাই ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গতি আনতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল হাওড়া পুরসভা। এবার থেকে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং বহুতল আবাসনগুলিকে ‘বাল্ক ওয়েস্ট জেনারেটর’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের থেকে নির্দিষ্ট ফি বা কর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে শহরের প্রতিটি কোণ থেকে আবর্জনা সরাতে পর্যায়ক্রমে ৫০০টি নতুন ট্রাই সাইকেল ভ্যান নামানো হচ্ছে। মূলত শহরের ক্রমবর্ধমান বহুতল ও হোটেলের বর্জ্যের বোঝা সামাল দিতেই এই বিশেষ পরিকল্পনা।
বহুতলের বর্জ্য ও নতুন ‘ফি’: পুরসভা সূত্রে খবর, সাম্প্রতিককালে হাওড়া শহরে বহুতল আবাসনের সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে। প্রতিটি বহুতল থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ কেজি বর্জ্য বেরোচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকেই তার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিতে হয়। এতদিন এই নিয়ম কাগজে-কলমে থাকলেও এবার তা বাস্তবে কার্যকর করতে কোমর বেঁধে নামছে পুরসভা। ইতিমধেই শতাধিক বহুতলকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। বড় হোটেল ও রেস্তরাঁগুলিকেও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নির্দিষ্ট ফি প্রদানের বিষয়ে আবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পুরসভার প্রাথমিক আলোচনাও সম্পন্ন হয়েছে।
বাড়ি বাড়ি পৌঁছবে ট্রাই সাইকেল: শহরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবর্জনা সংগ্রহের পরিষেবা আরও প্রসারিত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। এতদিন এই পরিষেবা কেবল ২২টি ওয়ার্ডে সীমাবদ্ধ ছিল। ট্রাই সাইকেল ভ্যানের অভাবে বাকি ২৮টি ওয়ার্ডে কাজ শুরু করা যাচ্ছিল না। সম্প্রতি সুডার (SUDA) কাছে ৫০০টি নতুন ট্রাই সাইকেল ভ্যান চেয়েছে পুরসভা। পর্যায়ক্রমে এই ভ্যানগুলি চলে এলে শহরের ৫০টি ওয়ার্ডেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে জঞ্জাল সংগ্রহের কাজ শুরু হবে।
ভ্যাট উপচে পড়া রুখতে কড়াকড়ি: শহরের ১৫৮টি ‘সেকেন্ডারি কালেকশন পয়েন্ট’ বা ভ্যাটগুলি থেকে নিয়মিত আবর্জনা পরিষ্কার না হওয়ায় বাসিন্দাদের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। অভিযোগ, বরাতপ্রাপ্ত সংস্থাগুলি তেলের খরচ বাঁচাতে পর্যাপ্ত গাড়ি ব্যবহার করছে না। দিনে একাধিকবার জঞ্জাল তোলার কথা থাকলেও অনেক জায়গায় মাত্র একবার গাড়ি আসছে। পুরসভার কনজারভেন্সি দপ্তর জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হবে। বরাতপ্রাপ্ত সংস্থাগুলি যাতে নিয়ম মেনে গাড়ি মোতায়েন করে, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। নতুন এই পদক্ষেপের ফলে হাওড়া শহর জঞ্জালমুক্ত হবে বলেই আশাবাদী পুর প্রশাসন।