নিউজ ডেস্ক: বাম জমানায় তৈরি ডিভিসি সেচ খালের ওপরের সেই জরাজীর্ণ কাঠের সেতুই ছিল দিলালপুরবাসীর মেমারি শহরে আসার একমাত্র ভরসা। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গত ১৩ বছর ধরে সেটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছিল। বারবার দরবার করেও সুরাহা না হওয়ায় ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে রাগে ফেটে পড়েছিলেন দিলালপুর ও পার্শ্ববর্তী ৫-৬টি গ্রামের বাসিন্দারা। ভোট বয়কটের ডাক দিয়ে দেওয়ালে রাজনৈতিক প্রচার পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছিলেন তাঁরা। এমনকি প্রচারের ময়দানে খোদ তৃণমূল প্রার্থী শর্মিলা সরকারকেও গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে পড়ে ফিরে আসতে হয়েছিল।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) জেরে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যেতে পারে। রাজনৈতিক মহলের মতে, উন্নয়নের দাবিতে কোনো এলাকায় ভোট বয়কট চললে তা শাসক শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। সেই সমীকরণ মাথায় রেখেই দিলালপুরের মানুষের মন জয়ে কোমর বেঁধে নামল মেমারি ব্লক তৃণমূল নেতৃত্ব।
বুধবার মেমারি ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি নিত্যানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিডিও শতরূপা দাসকে সঙ্গে নিয়ে সেই বিতর্কিত সেতুর শিলান্যাস করলেন সাংসদ শর্মিলা সরকার। সাংসদ তহবিল থেকে এই প্রকল্পের জন্য ৩০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। শিলান্যাস মঞ্চ থেকেই সাংসদ এলাকাবাসীকে পুরনো তিক্ততা ভুলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার আর্জি জানান।
শাসক দলের এই তৎপরতাকে অবশ্য কটাক্ষ করতে ছাড়েনি গেরুয়া শিবির। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, “SIR-এর আতঙ্কে তৃণমূল নেতাদের ঘুম উড়ে গিয়েছে। লোকসভা ভোটের সময় উন্নয়নের কথা মনে না পড়লেও, এখন হারের ভয়ে লোক দেখানো কাজ করছে তৃণমূল। মানুষ আর এই মিথ্যে প্রতিশ্রুতিতে ভুলবে না।” দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেতুর কাজ শুরু হওয়ায় গ্রামবাসীদের মনে আশার আলো দেখা দিলেও, রাজনৈতিক তরজায় সরগরম দিলালপুর।