নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে ভোটারদের মনোবল বাড়াতে এ বার কোমর বেঁধে ময়দানে নামছে প্রশাসন। জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের যৌথভাবে এলাকায় এলাকায় গিয়ে ভোটারদের আশ্বস্ত করার যে প্রক্রিয়া (কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার), তা নিয়ে আরও কড়াকড়ি শুরু করল রাজ্য পুলিশের শীর্ষমহল। এখন থেকে প্রতিটি জেলা ও কমিশনারেট এলাকায় দিনে কতবার এই অভিযান চালানো হচ্ছে, তার তথ্য এবং ছবি প্রতিদিন নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করতে হবে। এই নির্দেশ পালনে কোনওরকম গাফিলতি হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ভোটাররা যাতে কোনও ভয় বা হুমকির শিকার না হয়ে নির্ভয়ে বুথে পৌঁছতে পারেন, তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদের নিয়মিত এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হয়। কিন্তু কমিশনের কাছে অভিযোগ আসে যে, একাধিক জেলায় এই যৌথ অভিযান যথাযথভাবে হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশন অসন্তোষ প্রকাশ করার পরই নড়েচড়ে বসে নবান্ন। রবিবার এডিজি (আইনশৃঙ্খলা)-এর তরফে এক লিখিত নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, জেলাশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার বা কমিশনারদের নিয়মিত যৌথভাবে এলাকা পরিদর্শন করতে হবে।
এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, কেবল এলাকায় গেলেই হবে না, ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা কোনও হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। কোথায়, কোন এলাকায় কতক্ষণ এই অভিযান চলল এবং সেখানে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া কেমন, তার যাবতীয় তথ্য প্রতিদিন রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তরে পাঠাতে হবে। এমনকি, এলাকায় পরিদর্শনের ছবিও প্রমাণ হিসেবে আপলোড করতে হবে। নির্দেশ আসার পর রবিবার সন্ধ্যা থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে রিপোর্ট আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভোটের মুখে সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তা বোধ ফিরিয়ে আনাই এখন প্রশাসনের কাছে বড় পরীক্ষা।