নিউজ ডেস্ক: “সোমবার রাতে কোচবিহার যাওয়ার দুটো এসি ভলভো টিকিট চাই ভাই। ভোট দিতে যাব। এবার ভোট না দিলে আবার কী সমস্যা হবে, কে জানে!”— উত্তরবঙ্গের এক বেসরকারি বাস মালিকের ফোনে আসা এক পদস্থ পুলিশ কর্তার এই ‘আবদার’ স্রেফ একটি উদাহরণ মাত্র। বাস্তব চিত্রটি হল, প্রথম দফার ভোটের আগে ধর্মতলার বাস টার্মিনাসে এখন তিল ধারণের জায়গা নেই। উত্তরবঙ্গগামী বাসের টিকিটের চাহিদা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে মালিকপক্ষ থেকে সাধারণ কর্মচারী— সবারই এখন নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়।
আগামী ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, রায়গঞ্জ ও মালদহ-সহ উত্তরবঙ্গের ১৫২টি বিধানসভা আসনে ওই দিন ভাগ্যপরীক্ষা। কর্মসূত্রে বা পড়াশোনার তাগিদে কলকাতায় থাকা উত্তরবঙ্গের হাজার হাজার মানুষ এখন ঘরের ছেলে ঘরে ফেরার তাড়নায় ব্যাকুল। সল্টলেকের আইটি কর্মী থেকে শুরু করে ছোট ব্যবসায়ী— সকলেরই গন্তব্য এখন শিলিগুড়ি, বালুরঘাট কিংবা মালদহ। ফলে ধর্মতলা থেকে ছেড়ে যাওয়া ভলভো, স্লিপার কিংবা নন-এসি— কোনও বাসেই একটা আসনও খালি মিলছে না।
চাহিদা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভাড়ার পারদও চড়েছে। এসি বাসের টিকিট বিকোচ্ছে ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকায়, আর নন-এসির ভাড়া দাঁড়িয়েছে ৭০০-৮০০ টাকা। বাস মালিকদের দাবি, আগে যেখানে বাসে বেশ কিছু আসন খালি থাকত, এখন অতিরিক্ত বাস চালিয়েও ভিড় সামলানো যাচ্ছে না। তবে এই ভিড়ের পেছনে কেবল গণতান্ত্রিক কর্তব্য নয়, কাজ করছে এক প্রচ্ছন্ন আশঙ্কাও। যাত্রী রাজু সরকার ,হরেন মাহাতো, সুনিতা মাঝি , আফজাল ,রাহমদের কথায়, “ভোটটা এবার দিতেই হবে, না হলে পরে কী হবে কেউ জানে না। এসআইআর (SIR) নিয়ে যা চলছে, তাতে একটা ভয় তো আছেই।”
বাস টার্মিনাসের ব্যস্ততার মাঝেই আবার রাজনৈতিক জল্পনাও তুঙ্গে। উত্তরবঙ্গের এই জনস্রোত শেষ পর্যন্ত কার ঝুলিতে ভোট দেবে, তার উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে। তবে আপাতত ধর্মতলার ছবিটা স্পষ্ট— বাসের হ্যান্ডেল থেকে স্লিপার কোচ, সর্বত্রই এখন ‘ভোটের জয়গান’।