নিউজ ডেস্ক: গরমের শুরুতেই বাঁকুড়া শহরে জল-যন্ত্রণা চরমে। দু’দিন কাটতে না কাটতেই ফের বড়সড় ফাটল দেখা দিল জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের (PHE) প্রধান পানীয় জলের পাইপলাইনে। বৃহস্পতিবার বাঁকুড়া শহর সংলগ্ন ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের গন্ধেশ্বরী নদীর ব্রিজের পাশে পাইপ ফেটে যাওয়ায় দিনভর শহরজুড়ে বন্ধ থাকল আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জল সরবরাহ। দহনবেলা শুরু হতেই এভাবে বারবার পাইপ ফেটে জল পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসিন্দারা। সামনেই বিধানসভা ভোট, তার আগে এই ‘নির্জলা’ পরিস্থিতি শাসক-বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক সমীকরণকেও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
বাঁকুড়া শহরের ভূগর্ভস্থ জল পানের অযোগ্য হওয়ায় বড়জোড়া প্রকল্পের পরিস্রুত জলের ওপরই নির্ভরশীল কয়েক লক্ষ শহরবাসী। দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে শোধিত হয়ে আসা এই জলই কেশিয়াকোল পাম্প হাউসের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি সতীঘাট বাইপাস এবং এখন গন্ধেশ্বরী সেতুর পাশে পরপর পাইপ ফাটার ঘটনায় প্রশাসনের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দা মুকুল ভট্টাচার্য বা মিতা সেনদের অভিযোগ, “পুরসভার জলে আয়রন বেশি থাকায় আমরা পিএইচই-র জলের ওপরই ভরসা করি। কিন্তু আগাম কোনও ঘোষণা ছাড়াই জল বন্ধ করে দেওয়ায় রান্নার কাজেও চরম সমস্যা হচ্ছে।”
পিএইচই-র এক আধিকারিকের দাবি, জলের অতিরিক্ত চাপের কারণেই এই বিপত্তি। দিনভর মেরামতের কাজ চলেছে এবং রাতের মধ্যেই তা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, বাঁকুড়া পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান হীরালাল চট্টরাজ জানিয়েছেন, পরিস্রুত জল সরবরাহ বন্ধ থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থায় পুরসভার নিজস্ব জল পরিষেবা সচল রাখা হয়েছিল। শুক্রবার থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। তবে ভোটের মুখে বারবার এই বিভ্রাট জনমানসে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে চিন্তিত জেলা প্রশাসন।