নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তিলোত্তমায় ফের সক্রিয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আগামী বৃহস্পতিবার রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ, তার ঠিক চার দিন আগে রবিবার সকাল থেকে কলকাতার একাধিক প্রান্তে ম্যারাথন তল্লাশি শুরু করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এ দিন বেহালার এক প্রভাবশালী আবাসন ব্যবসায়ীকে আটক করার পাশাপাশি লালবাজারের এক পদস্থ পুলিশ কর্তার বাসভবনেও হানা দিয়েছেন তদন্তকারীরা। কেন্দ্রীয় সংস্থার এই জোড়া হানায় ভোটের মুখে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
ইডি সূত্রে খবর, রবিবার সকালেই বেহালার পর্ণশ্রী এলাকায় রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী জয় কামদারের বাড়িতে পৌঁছন আধিকারিকরা। তবে সেখানে পৌঁছে তদন্তকারীদের দীর্ঘক্ষণ দরজার বাইরে অপেক্ষা করতে হয় বলে অভিযোগ। প্রায় ৪০ মিনিট পর বাড়ির দরজা খোলা হলে শুরু হয় তল্লাশি। এর আগে বেআইনি জমি দখল মামলায় অভিযুক্ত সোনা পাপ্পুকে জেরা করে জয়ে কামদারের নাম পেয়েছিলেন গোয়েন্দারা। এদিন প্রায় ৫ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার পর বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় তাঁকে আটক করে সিজিও কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। উল্লেখ্য, এর আগেও এই ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে কয়েক কোটি টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইডি তাঁকে দু’বার তলব করলেও তিনি হাজিরা এড়িয়েছিলেন। এ দিন তাঁর বাড়ি থেকেও বেশ কিছু নতুন নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বালিগঞ্জের ফার্ন রোডে কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের বাড়িতেও এদিন হানা দেয় ইডি। শান্তনুবাবু আগে কালীঘাট থানার ওসি পদে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়িতে ঠিক কী কারণে তল্লাশি চালানো হচ্ছে, তা নিয়ে তদন্তকারীরা এখনও মুখ না খুললেও বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবারই বালিগঞ্জ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে হানা দিয়েছিল আয়কর দপ্তর। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই অতি-সক্রিয়তা নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।