মুখটা আকাশের দিকে ফেরানো, শরীরটা কার্যত গিলে নিয়েছে ঘন কাদা। পাঁকের মধ্যে হাত-পা ছড়ানো নিথর দেহটি দেখে শিউরে উঠেছিলেন রাজারহাটের লাঙলপোতার বাসিন্দারা। প্রথম দর্শনে পুলিশও ভেবেছিল, জলাশয়ের কাদায় পড়ে থাকা ওই শরীরটি বুঝি নিছকই এক প্রাণহীন দেহ। কিন্তু মরণ-বাঁচনের সেই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসল রাজারহাট থানার পুলিশ। উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যেতেই ঘটল ‘মিরাকল’। দেখা গেল, যা মৃতদেহ বলে ভাবা হয়েছিল, চিকিৎসার ছোঁয়ায় তাতেই ফিরেছে প্রাণ। নিথর হাত-পা নড়ে উঠতেই যেন এক লহমায় নতুন জন্ম হল বছর পঞ্চান্নর এক প্রৌঢ়ের।
মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ রাজারহাট থানার সাব ইন্সপেক্টর পলক ঘোষ ও তাঁর দলের নজর পড়ে লাঙলপোতার একটি শুকিয়ে আসা জলাশয়ের দিকে। মাঝখানে থকথকে কাদার মধ্যে পড়েছিলেন ওই প্রৌঢ়। পুলিশ কর্মীরা কাদা ভেঙে যখন তাঁকে পাড়ে তোলেন, তখন তাঁর দেহে সাড়াশব্দ ছিল না। উদ্ধার করে দ্রুত রেকজোয়ানি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকদের তৎপরতায় নড়ে ওঠে হাত-পায়ের আঙুল। পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া ওই প্রৌঢ় মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। সম্ভবত জলাশয় পেরোতে গিয়ে কাদা দেখতে পাননি, আর তাতেই ঘটে বিপত্তি।
পাঁক থেকে মুক্তি পেতে আর সামান্য দেরি হলেই যবনিকা পড়ে যেত জীবনের। বর্তমানে রাজারহাট থানার পুলিশ আধিকারিকদের দেওয়া নতুন পোশাক আর গরম চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে ধাতস্থ হওয়ার চেষ্টা করছেন ওই ব্যক্তি। বারবার হাতজোড় করে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন প্রাণদাতাদের। বিধাননগর কমিশনারেটের এক কর্তা জানিয়েছেন, পুলিশের সময়োচিত হস্তক্ষেপেই নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন তিনি। প্রৌঢ়ের পরিচয় ও ঠিকানা খুঁজে বার করে তাঁকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে রাজারহাট থানার পুলিশ।